জাতীয়

শহীদ জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

শহীদ জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নাম। ১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে জন্ম নেওয়া এই সাহসী নারী একদিকে ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নির্ভীক কণ্ঠস্বর।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার জ্যেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রুমী পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একই সময়ে অসুস্থ স্বামী শরীফ ইমামও বিনা চিকিৎসায় মারা যান। স্বাধীনতার পর রুমীর সহযোদ্ধারা জাহানারা ইমামকে সব মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন। এরপর থেকেই তিনি ‘শহীদ জননী’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

শিক্ষকতা ছিল তার কর্মজীবনের মূল ভিত্তি। ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও রেখেছেন অনন্য অবদান। মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি নিয়ে লেখা তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া অন্য জীবন, বীরশ্রেষ্ঠ, বুকের ভিতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, নিঃসঙ্গ পাইনসহ বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার আন্দোলনে জাহানারা ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক হন এবং গণ-আদালতের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়।

দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাহানারা ইমাম। পরে তার মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়। ত্যাগ, সাহস, দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের প্রতীক হিসেবে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক অবিস্মরণীয় নাম।