জাতীয়
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবন বান্ধব বাজেট’ বললেন প্রধানমন্ত্রী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবন বান্ধব বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই বাজেটের লক্ষ্য দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং বাস্তবতার আলোকে জনগণবান্ধব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, সেটির নাম দিতে চাই— জীবন বান্ধব বাজেট।’
তিনি বলেন, চলতি সংসদ যাত্রার শুরু থেকে নানা মতপার্থক্য, আলোচনা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে। তবে ভিন্নমত থাকলেও সংসদে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে সবাই একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দেশের ২০ কোটি মানুষের। তাদের সহযোগিতা ও আস্থার কারণেই সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে দেশের উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল। সেই অবস্থা থেকে ধাপে ধাপে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সফল হয়েছে।
বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অতীতের বিতর্কে না গিয়ে সরকার ভবিষ্যতের দিকেই নজর দিতে চায়। তিনি স্বীকার করেন, কোনো বাজেটই সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে না। তবে সর্বোচ্চ চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে জনগণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এর ফলে অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার পর বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা এবার দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, শুল্ক প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। জনগণকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পেরেছি বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক এবং এই বাজেট সেই দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন। দেশের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করাই এই ‘জীবন বান্ধব বাজেট’-এর মূল লক্ষ্য।