জাতীয়
যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে ভাঙ্গন, আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে ফসলি জমি, বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকায়। তীব্র স্রোতের তোড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত স্পার বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও এখন হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে ধুনট উপজেলার বৈশাখী চর, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউসারিয়াকান্দি, আটারচর, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি ও কৈয়াগাড়িসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি জনপদ আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। উপজেলার চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের কারণে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঘরবাড়ি, ফসলি জমির পাশাপাশি শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়তে থাকায় শহড়াবাড়ি থেকে বানিয়াজান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেখানে বাঁধের ওপর বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর রক্ষার কাজ চলছে।