জাতীয়
বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ঠেকাতে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার বিধি-৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আলোচনায় শিরীন সুলতানা বলেন, দেশে অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। এছাড়া অনেক রোগী নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে গিয়ে সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করার বিষয়ে দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি রোধে দেশের উপজেলা ও শহরগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল টিম অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে নকল ওষুধ পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থে সরকার নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে।