সারাদেশ
টাঙ্গাইলে তিন বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে তিন বছরের শিশু আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার খালিয়ার বাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুলের বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর। গুরুতর আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আকলিমা বেগমকে হেফাজতে নেয় সখীপুর থানা-পুলিশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় পরবর্তী সময়ে তিনি আকলিমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে জন্ম নেয় আশরাফুল। তবে আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এ কারণে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী লালন-পালন করতেন। শিশুটি তাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশরাফুল তার জন্মদাত্রী মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত। এ বিষয়টি নিয়ে আকলিমা বেগমের মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে এটিই হত্যাকাণ্ডের কারণ—এমন কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শাহীন মিয়া ও আকলিমা বেগমের মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল না। ফলে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সেই সন্তানকে এভাবে হারাতে হবে, তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। একই ঘটনায় আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলও গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর আহত শিশুদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। নিহত শিশুর মরদেহও সেখানে রয়েছে। নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।