সারাদেশ
এডিস মশা ধনী-গরিব বা দল-মত দেখে কামড়ায় না: চসিক মেয়র
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এডিস মশা দল-মত, শ্রেণি কিংবা পেশা দেখে কাউকে কামড়ায় না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চসিকের উদ্যোগে নগরীর ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে পরিচালিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং এডাল্টিসাইড ছিটানোর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মেয়র। পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লার্ভিসাইড প্রয়োগ, এডাল্টিসাইড স্প্রে, লিফলেট বিতরণ এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। নগরবাসী নিজেদের বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে থাকবে। তাই মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চসিক মেয়র বলেন, জ্বর হলেই যে ডেঙ্গু হবে, এমনটি নয়। চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর হতে পারে। তবে কারও জ্বর দুই থেকে তিন দিন ধরে অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা জনপ্রতিনিধির একার দায়িত্ব নয়। প্রধানমন্ত্রী, মেয়র বা সিটি করপোরেশন এককভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও ধারাবাহিক মশক নিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।