অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে ফের চাঙা স্বর্ণ, এক আউন্সের দাম ৪ হাজার ৩১২ ডলার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

বিশ্ববাজারে ফের চাঙা স্বর্ণ, এক আউন্সের দাম ৪ হাজার ৩১২ ডলার
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। ডলার ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার ও ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশের কারণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১২ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত গোল্ড ফিউচার্সের দাম ছিল ভিন্নমুখী। এদিন ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের দর কমায় স্বর্ণে বাড়তি চাহিদা

বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের মূল্য সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। সাধারণত ডলারের দাম কমলে অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে। এবারও ডলারের দরপতন স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কাতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, যা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

ফেডের সুদহার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশ

স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির দিকে। বুধবার ফেড সুদহার বাড়িয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে আরও সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সাধারণত উচ্চ সুদহারের পরিবেশে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ প্রদানকারী সম্পদে তুলনামূলক বেশি আগ্রহী হন। অন্যদিকে, স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ কারণে ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদহার, ডলারের মূল্য, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের দামে আরও ওঠানামা হতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে

শুধু স্বর্ণ নয়, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। এদিন স্পট রূপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮৩ ডলারে উঠেছে।

এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৭২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্যালাডিয়ামের দামও ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে স্বর্ণের নতুন দাম

এদিকে বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেই বাংলাদেশে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ও রূপার গহনা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে শনিবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন নির্ধারিত দামে স্বর্ণ ও রূপার গহনা বিক্রি শুরু হয়। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুসের নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা।

এ ছাড়া কম দামি বা সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।

রূপার গহনার দামও নির্ধারিত

স্বর্ণের পাশাপাশি বাংলাদেশে রূপার গহনার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার গহনার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি এক ভরি রূপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯১ টাকা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রচলিত হিসাবে এক ভরি স্বর্ণ বা রূপার ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আসতে পারে।