সারাবিশ্ব

১২ বছর পর জানা গেল, যাকে হত্যার দায়ে স্বামী জেল খেটেছেন সেই স্ত্রী জীবিত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

১২ বছর পর জানা গেল, যাকে হত্যার দায়ে স্বামী জেল খেটেছেন সেই স্ত্রী জীবিত
ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে ১২ বছর কারাগারে কাটানোর পর জানা গেল, সেই স্ত্রী আসলে জীবিত। ভারতের বিহারের রোহতাস জেলায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুরনো হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে।

২০১৪ সালে রোহতাস জেলার একটি গ্রাম থেকে শকুন্তলা দেবী নামের এক নারী নিখোঁজ হন। তার ভাই থানায় অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শকুন্তলাকে নির্যাতন করতেন। অভিযোগ দায়েরের দুই দিন পর খান্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শকুন্তলার ভাই ও স্থানীয় এক কর্মকর্তা মরদেহটি শকুন্তলার বলে শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতা, দেবর গোবিন্দ কুমারসহ পরিবারের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অরুণ কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। মেহতা পরিবারের দাবি, শকুন্তলার পরিবার আট লাখ রুপি দাবি করেছিল। পরে পৈতৃক জমি বিক্রি করে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়।

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সবাই ধরে নিয়েছিলেন শকুন্তলা মারা গেছেন। তবে সম্প্রতি তার শ্বশুর জানতে পারেন, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে শকুন্তলাকে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। বিষয়টি রোহতাস পুলিশকে জানানো হলে অভিযান চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার লাভারি গ্রাম থেকে শকুন্তলাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, সেখানে তিনি ‘কান্তি দেবী’ নাম ব্যবহার করে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। পরে তাকে রোহতাসে ফিরিয়ে এনে সাসারামের আদালতে হাজির করা হয়। প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শকুন্তলা জীবিত ফিরে আসায় পুরনো হত্যা মামলাটি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর প্রকৃত পরিচয় কী ছিল এবং শকুন্তলার ভাই কেন ভুল মরদেহ শনাক্ত করেছিলেন, তা খুঁজে বের করতে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে রোহতাস জেলা পুলিশ।