জাতীয়

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগালেও সংকট পুরোপুরি কাটাতে সময় লাগবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। কারণ অর্থনীতির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকে বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিয়েছে। যারা ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান, তাদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ঋণ ব্যাংকের হিসাবের খাতায় থাকলেও বাস্তবে যদি তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে শুধু কাগজে সেটিকে ঋণ হিসেবে দেখিয়ে রাখার অর্থ নেই। ব্যাংকের হিসাব পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া এই প্যাকেজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। যোগ্য হওয়ার পরও কোনো ব্যাংকে বাধার মুখে পড়লে বিষয়টি সরকারকে জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রাখা হবে না।

আমির খসরু আরও বলেন, আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরই ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হবে। আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।