জাতীয়

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। মোবাইল ইন্টারনেটের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড সংযোগের গ্রাহকও ধারাবাহিকভাবে বাড়ায় দেশের ডিজিটাল সংযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৮৭ লাখ ৬৭ হাজার। এর ফলে আগস্ট শেষে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার। একই সময়ে দেশে ইন্টারনেটের বিস্তার বা পেনিট্রেশন বেড়ে ৭৭ দশমিক ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিটিআরসির মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার। ফেব্রুয়ারিতে সামান্য পরিবর্তনের পর মার্চে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজারে। এরপর এপ্রিল মাসে মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার, মে মাসে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার, জুনে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার, জুলাইয়ে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার এবং আগস্টে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছায়।

ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তারেও ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জানুয়ারিতে দেশে ইন্টারনেটের বিস্তার ছিল ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা সামান্য কমে ৭২ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে গেলেও মার্চ থেকে আবার বাড়তে শুরু করে। মার্চে ইন্টারনেটের বিস্তার দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, এপ্রিলে ৭৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, মে মাসে ৭৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, জুনে ৭৭ শতাংশ, জুলাইয়ে ৭৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং আগস্টে ৭৭ দশমিক ৮৯ শতাংশে পৌঁছে।

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো মোবাইল সংযোগই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। জানুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার। আট মাসে ৮০ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক বেড়ে আগস্টে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজারে। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার ৬৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়েছে।

অন্যদিকে, আইএসপি ও পিএসটিএন সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহৃত ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক সংখ্যাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে দেশে ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখে। এ সময়ে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কেও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে। দেশে থ্রি-জি থেকে ফোর-জি প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তর ঘটছে। জানুয়ারিতে ফোর-জি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজারে। বিপরীতে, একই সময়ে থ্রি-জি গ্রাহকের সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ থেকে কমে ১ কোটি ৫ লাখে নেমে এসেছে। এতে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে উন্নততর নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

থ্রি-জি ও ফোর-জি গ্রাহক নিয়ে গঠিত মোট মোবাইল ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজারে। একই সময়ে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ৫৭ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে।

চারটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যাতেও এই সম্প্রসারণের চিত্র দেখা গেছে। জানুয়ারিতে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার, যা আগস্টে বেড়ে ৮ কোটি ৭২ লাখে দাঁড়িয়েছে। রবির গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার। বাংলালিংকের গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৭৪ লাখ থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। আর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৬৮ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ৬৯ লাখে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগের এই সম্প্রসারণের প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক টেলিডেনসিটিতেও। ভয়েস ও ইন্টারনেট-উভয় ধরনের সংযোগকে বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করা টেলিডেনসিটি জানুয়ারিতে ছিল ১০৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ২৭ শতাংশে।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান বলছে, বছরের প্রথম দুই মাসে ইন্টারনেট বিস্তারে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিলের পর ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির গতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার, ব্রডব্যান্ড সংযোগের বৃদ্ধি এবং থ্রি-জি থেকে ফোর-জিতে রূপান্তর-সব মিলিয়ে দেশের ডিজিটাল সংযোগ অবকাঠামো ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু নতুন সংযোগ বাড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের মানুষের ডিজিটাল সেবা, অনলাইন যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ছে। একই সঙ্গে ফোর-জি প্রযুক্তির বিস্তার মোবাইল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকটিও তুলে ধরছে। তবে ইন্টারনেটের বিস্তার আরও বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক, মানসম্মত সেবা এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।