জাতীয়

রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বাড়াতে অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বাড়াতে অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আইনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং করদাতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ে দাখিলপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারায় সংশোধন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংশোধনের মাধ্যমে করদাতাদের দাখিলপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হবে।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিধান পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থাৎ, তিনটি কর মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হওয়ার পর দাখিলপত্র জমা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আলাদাভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে। এর ফলে রাজস্ব প্রশাসনের কাছে করসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পৌঁছাবে এবং মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায় ও তদারকি কার্যক্রম আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, নিয়মিত ও সময়মতো দাখিলপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের ফলে কর আদায় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বাড়বে। একই সঙ্গে করদাতাদের কর-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত হালনাগাদ করা এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অনিয়ম বা বিলম্ব চিহ্নিত করাও সহজ হতে পারে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অধ্যাদেশটি জারি করা হবে। এর মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।