রাজনীতি

নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধ করা সমর্থন করি না: সালাহউদ্দিন আহমদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম

নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধ করা সমর্থন করি না: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে বিএনপি নয়।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। যদি কোনো দলকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলে নিষিদ্ধ করতে চাওয়া হয়, তাহলে এ ২৮টি দলকেই নিষিদ্ধ করতে হবে। তাহলে নির্বাচন কাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে?”

গতকাল (মঙ্গলবার) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি’ প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাহী আদেশে কোনো দল নিষিদ্ধ করা আমরা সমর্থন করি না। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। এ জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। আগে এই আইন ছিল না। এখন গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারবে। আদালত সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাচন কমিশন তা মানতে বাধ্য। বিএনপি এ প্রক্রিয়ার বাইরের কিছু সমর্থন করে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, নিজেদের সুবিধার জন্য কেউ কেউ একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবি তুলতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ আলাদা। তার মতে, আওয়ামী লীগ গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য সরাসরি দায়ী। বিএনপিই প্রথম দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি তুলেছিল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন না হলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে জাতীয় ঐক্য নষ্ট হবে এবং পতিত ফ্যাসিবাদ সুযোগ নেবে।”

জাতীয় নির্বাচনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালুর দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংসদে কয়েকটি আসন পাওয়ার লোভে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আমরা উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—সব জায়গাতেই পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে।”

নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে কোনো রাজনৈতিক কৌশলে নির্বাচন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। জনগণ ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে। তাই এ অধিকারের পথে বাধা দিলে জনগণই জবাব দেবে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এ দাবি তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণই হবে চূড়ান্ত বিচারক।”