রাজনীতি

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জবাবদিহিতার রাজনীতি গড়তে চাই: তারেক রহমান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩১ এএম

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জবাবদিহিতার রাজনীতি গড়তে চাই: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের বিএনপি হবে গণতন্ত্রের দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো একটি জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক দল।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিবিসি বাংলায় সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব। অতীতের সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চাই।”

বিএনপি নেতার ভাষ্যে, “আমরা গর্ব করি যে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ও প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার সূচনা বিএনপির শাসনামলেই হয়েছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। এমনকি সেই সময় বাংলাদেশ বিদেশে খাদ্য রপ্তানিও করেছিল।”

তিনি আরও বলেন, “যখন দেশে বাকশালের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন বিএনপির হাত ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। এই ইতিহাসই আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়।”

রাজনীতিতে জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “অভিযোগ আসতেই পারে, কিন্তু আমরা সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিই। সুযোগ পেলে আমরা প্রমাণ করব, জবাবদিহিতা কীভাবে বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এটা একদিনে সম্ভব নয়, তবে ধীরে ধীরে আমরা তা নিশ্চিত করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দেশ গঠনের কাজে শুধু রাজনীতিবিদ নয়, সাধারণ নাগরিকরাও অংশীদার। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব জবাবদিহিতার একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে।”

প্রবাসজীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “গত ১৭ বছর আমি প্রবাসে রয়েছি। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এত দূর থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব হতো না। আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তাদের সহায়তা না থাকলে এই কঠিন দায়িত্ব আরও কঠিন হয়ে যেত।”

তারেক রহমান শেষে বলেন, “নানা বাধা-বিপত্তি, দমন-পীড়নের মধ্যেও যারা দলকে সংগঠিত রেখেছেন, রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন এবং জনগণের দাবির পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন—আমি তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। যুক্তরাজ্যে থেকে যা ভালো দেখেছি বা শিখেছি, সুযোগ পেলে সেই অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই।”