রাজনীতি

শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি হেফাজতের নয়: মামুনুল হক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম

শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি হেফাজতের নয়: মামুনুল হক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দেওয়া ‘কওমি জননী’ উপাধির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ উপাধি হেফাজত বা বাংলাদেশের আলেমসমাজের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। যিনি এ উপাধি দিয়েছিলেন, তা ছিল তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। ওই ব্যক্তি হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না; বরং তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত এবং দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী একজন আলেম ছিলেন। সুতরাং তার ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় কোনোভাবেই হেফাজতে ইসলাম নেবে না।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার বিচার আজও হয়নি। এ ছাড়াও শাপলা চত্বরে নিহত আলেম ও মাদ্রাসাছাত্রদের খোঁজখবরসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, কওমি সনদের স্বীকৃতির পর শেখ হাসিনাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া তথাকথিত ‘শোকরানা মাহফিল’-এ হেফাজত ইসলাম ‘কওমি জননী’ উপাধি প্রদান করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কেন হেফাজত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, শোকরানা মাহফিলকে ঘিরে হেফাজতের ভেতরেই দ্বিধা-বিভক্তি ছিল। তৎকালীন মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, ঢাকা মহানগর সভাপতি ও নায়েবে আমির আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমীসহ অনেক শীর্ষ আলেমই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানটি মূলত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর উদ্যোগে হয়েছিল। তবে সরকার পরিকল্পিতভাবে সেখানে হেফাজতে ইসলামের নাম ব্যবহার করতে বাধ্য করেছিল।

তিনি আরও বলেন, আসলে বিষয়টি ছিল কওমি সনদের স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে কওমি ছাত্র-জনতার প্রাণের দাবি ছিল এই স্বীকৃতি। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে আলেমসমাজ তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ন্যূনতম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছিল। এটি কোনো ভুল ছিল না, তাই এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করারও প্রয়োজন নেই। তবে ওই অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন—বিশেষ করে শাপলা চত্বরের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে যে মিথ্যাচার করা হয়েছিল—হেফাজত ইসলাম তখনই তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং আজও জানাচ্ছে।

মামুনুল হক দৃঢ়ভাবে বলেন, “সত্যকে বিকৃত করার এই অপচেষ্টা হেফাজত ইসলাম কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।”