রাজনীতি

স্বৈরাচারী পথে হাঁটছে সরকার, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন: জিএম কাদের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

স্বৈরাচারী পথে হাঁটছে সরকার, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন: জিএম কাদের
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথেই এগোচ্ছে। তার অভিযোগ, দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬ এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল শক্তিশালী জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সরকার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।

সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই মাসে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার চেতনার প্রতিফলন বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় নেই। বরং সেই চেতনার আড়ালে নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

ভিন্নমত দমন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা, হাটে-বাজারে বাধা এবং আইন করে দল নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া বা দমন করলেই দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে এবং এর দায় সরকার এড়াতে পারে না।

তরুণদের প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে দেশের তরুণ সমাজ হতাশ হয়ে পড়ছে এবং অনেকেই মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।