রাজনীতি

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ও দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, শুধু তাঁর নির্বাচনী এলাকা নয়, দেশের প্রতিটি আসনেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। এতে দেশ, গণতন্ত্র ও জনগণ-সবারই মঙ্গল হবে।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মান্না অভিযোগ করে বলেন, এবারের নির্বাচনে তাঁকে একের পর এক অযৌক্তিক ও তুচ্ছ কারণে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর পাওনা নিয়ে আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও বগুড়া-২ আসনে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। অথচ একই বিষয় থাকা সত্ত্বেও ঢাকার একটি আসনে তাঁর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। তিনি বলেন, বগুড়ার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মূলত মনোনয়ন বাছাইয়ের দিন এক ধরনের ‘মব জাস্টিস’-এর শিকার হন, যা নির্বাচন শুরুর আগেই একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও যে রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকে তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেও তাঁকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এসব কিছু পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, যেন তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।

মান্না অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাঁর নেতাকর্মীদের মাঠে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ১২ তারিখের পর সরকার গঠন করা হবে এবং তখন নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীকের কর্মীদের ‘দেখে নেওয়া হবে’। বিশেষ করে নারী কর্মীরা বেশি হুমকির মুখে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

কে বা কোন দলের লোকজন এই হুমকি দিচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, যারা মনে করছে তারাই ক্ষমতায় যাচ্ছে, মূলত তারাই এসব করছে। এ সময় জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জামায়াত তো প্রকাশ্যে বলেনি যে তারাই ক্ষমতায় যাচ্ছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে গুঞ্জনের প্রশ্নে মান্না বলেন, এমন কথা তিনিও শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানাননি।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি অবশ্যই নির্বাচনে থাকছেন। কারণ নির্বাচন করার উদ্দেশ্যেই তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এবং মাঠে সক্রিয়ভাবে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।