রাজনীতি

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে নুরের পাল্টা বক্তব্য


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে নুরের পাল্টা বক্তব্য
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা, অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয়, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং নির্বাচনি এলাকায় অস্ত্রের মহড়াসহ একাধিক অভিযোগ তুলেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দশমিনা উপজেলা সদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকরুজ্জামান বাদল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। একই আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে নুরুল হক নুরের উত্থান ঘটে এবং সে সময় বিভিন্ন বিরোধী দল ও প্রবাসীদের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সহায়তা পান। আন্দোলন শেষ হওয়ার পর চাকরির পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ উপার্জনের পথে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, নুরুল হক নুর ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন বিএনপি নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে নুরুল হক নুর কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন এবং সেই অর্থ নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় করছেন। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের কালো টাকার লোভ দেখিয়ে তার পক্ষে কাজ করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। এসব প্রস্তাবে সাড়া না দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনীতিচ্যুত করা ও মামলা-হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে গলাচিপা ও দশমিনা এলাকায় ঘোড়া প্রতীকের একাধিক নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে অনেকে আহত হয়েছেন এবং এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বিএনপি নেতারা আরও অভিযোগ করেন, নুরুল হক নুরের অনুসারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। নির্বাচনি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ঢুকিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে রাতের বেলায় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফকরুজ্জামান বাদল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হতে পারে।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল আলিম তালুকদার, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, সাবেক সহ-সভাপতি মো. মোফাজ্জেল হোসেনসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, হাসান মামুন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বা তার ‘লেভেলের’ প্রার্থী নন। তিনি দাবি করেন, আলোচনায় আসতে ও পরিচিতি বাড়াতে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। হাসান মামুন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন এবং তার পেছনে একটি চক্র অর্থ ব্যয় করছে।