রাজনীতি
বিএনপির নারী এমপি বীথিকা হোসাইনকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মানহানির প্রতিবাদ জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।
পোস্টে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের শিকার হচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
পোস্ট অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে একটি জনসম্মুখের অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সদস্য হওয়ার জন্য তার কাছে আসিফ মাহমুদ তিন কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। অভিযোগটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ কিংবা কার মাধ্যমে এবং কার কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়েছিল—সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদের দাবি, বীথিকা বিনতে হোসাইন একাধিকবার তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বা তথ্য উপস্থাপন করেননি। পরবর্তীতে তিনি জানান, ‘আমাকে তো এমনটাই বলা হয়েছে।’ এরপর তিনি যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। এতে অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য করা হয়েছে বলে মনে করছেন এনসিপির এই নেতা।
এ পরিস্থিতিতে বীথিকা বিনতে হোসাইনের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর কোনোটি না করলে প্রচলিত আইনে মানহানির মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, এই ধরনের ধারাবাহিক অপপ্রচার কেবল ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব, চেতনা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বৃহত্তর অপচেষ্টার অংশ। একই ধরনের মিথ্যাচার ও চরিত্রহননের শিকার হয়েছেন জুলাই আন্দোলনের আরও অনেক নেতা। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিটি অপপ্রচারের জবাব আইনের মাধ্যমেই দেওয়া হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।