রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার তিন কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার তিন কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, এই নির্বাচন তার কাছে অর্থহীন ও প্রহসনের মনে হয়েছে। ভোট না দেওয়ার পেছনে তিনি তিনটি কারণের কথা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমকে রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকায় এটিকে নির্বাচন বলা যায় না। তার ভাষায়, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটি কোনো নির্বাচন নয়। যেহেতু ফলাফল সবারই জানা, তাই এটি মূলত মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।

ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশে একটি বড় গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, যার সঙ্গে মানুষের আত্মত্যাগ ও অনেক স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাই মিলে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা সম্ভব হয়নি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা বলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। অথচ বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ভিশন ২০৩০ নিয়ে কথা বলেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে তিনি এই ভোটে অংশ নিতে চাননি।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান ভোট দিতে আসেননি। আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তার দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। এ ছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।

আদালতের রায়ে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। তাদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। একইভাবে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। তবে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অভিযোগে দলটি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পরে জানা যায়, ইসলামী আন্দোলনের ওই সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।