রাজনীতি
এনসিপি অহেতুক বিবাদে জড়াচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ নয়, সমঝোতা প্রয়োজন: এবি পার্টি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জাতীয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাল ‘আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি’। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, “পদত্যাগ নয়, বরং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সমঝোতায় আসতে হবে।”
শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কোনো উদ্যোগ উপদেষ্টারা নেননি। বরং কোনো কোনো উপদেষ্টার কার্যকলাপে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সংহতি বিনষ্ট হয়েছে।”
তিনি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি সম্পর্কে বলেন, “ছাত্রদের নিয়ে গঠিত দলটি কিছু কিছু বিষয়ে অহেতুক বিবাদে জড়িয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
সেনাবাহিনী প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, “আমরা ওই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জেনেছি, কোনো সরকারি বা অফিসিয়াল তথ্যসূত্র পাইনি। এমন একটি বিষয়ে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলে ভালো হতো।”
মঞ্জু বলেন, “গত কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি, যমুনা অবরোধসহ আন্দোলন ও সেনাপ্রধানের কথিত বক্তব্য—সব মিলে দেশজুড়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপি ও এনসিপি'র সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার, বিচার ও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ ইস্যুতে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। এতে প্রশাসন দুর্বল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়েছে।”
নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, “এর ফলে অনেকে সন্দেহ করছেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকতে চায়। অথচ আমরা বহুবার অনুরোধ করেছি, বিবদমান পক্ষগুলো যেন আলোচনায় বসে সমাধান খোঁজে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, শাহাদাতুল্লাহ টুটুলসহ দলটির শীর্ষ নেতারা।
মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি মনে করে, দেশের বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীন আচরণ। সংকটের সমাধান ড. ইউনূসের পদত্যাগে নয়, বরং সম্মিলিত আলোচনায়—এমনটাই তাদের আহ্বান।