রাজনীতি

এনসিপির নিবন্ধনই নেই, বড় দল হিসেবে কীভাবে ডাকে সরকার: প্রশ্ন নুরের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম

এনসিপির নিবন্ধনই নেই, বড় দল হিসেবে কীভাবে ডাকে সরকার: প্রশ্ন নুরের
নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বুধবার (২৩ জুলাই) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সরকার যেভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে, তাতে ভবিষ্যতের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”

নুর বলেন, “একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার যদি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর দিকে হেলে পড়ে, তাহলে সেই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে। আজ আমরা এই বিষয়টি সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাতে যেসব দলকে সংলাপে ডাকা হয়েছিল, তার মধ্যে একটি দলের কোনো নিবন্ধনই নেই। সদ্য গঠিত। অথচ সরকার সেটিকেই বড় দল হিসেবে বিবেচনা করছে। এটা কোন ক্রাইটেরিয়ায়? এ প্রশ্ন শুধু আমাদের নয়, আজকের বৈঠকে থাকা সব দলের পক্ষ থেকেই এই অভিযোগ এসেছে।”

গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বৈঠকে এনসিপিকে ঘিরে সরকারের ‘বিশেষ আচরণ’ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। নুর বলেন, “একটি অনিবন্ধিত দলকে যেভাবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে এমন আচরণ করলে সরকার নিজেই নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুর। চট্টগ্রামের আইনজীবী চিন্ময় দাস হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এসব ঘটনার পূর্বাভাস সাধারণ মানুষও পাচ্ছে, তাহলে গোয়েন্দা সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ কেন? নাকি সরকারের ভেতরে কোনো সমন্বয়হীনতা আছে?”

নুর আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা যেসব আশা করেছিলাম, বাস্তবে সেখানে একটা বড় ধাক্কা খেয়েছি। সরকারের জনপ্রিয়তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমে গেছে, সেটা সরকারও জানে।”

স্থানীয় সরকার নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধি না থাকায় মাঠ পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষে সবকিছু সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাই করা দরকার।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১১ মাসে এনসিপি ছাড়া কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বসেনি সরকার। “ছাত্র রাজনীতিতে বিভাজনের বদলে ঐক্যের দরকার। আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি, সব ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একসাথে বসার। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।”

শেষে নুর বলেন, “সরকার যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমরা চাই সরকার বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিক, কোনো দল বা গোষ্ঠীর চাপ কিংবা প্রভাব নয়।”