ধর্ম
কিয়ামতের আগে যে ১০টি ভয়ংকর আলামত প্রকাশ পাবে
সৃষ্টি জগতের যেমন শুরু আছে, তেমনি এর শেষও অবধারিত। মহান আল্লাহ তায়ালার সাজানো এই পৃথিবী একদিন এক মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে ধ্বংস হবে, যাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘কিয়ামত’ বলা হয়।
কিয়ামত কখন হবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না, তবে নবী করিম (সা.) এর আগাম সতর্কবার্তা অনুযায়ী বড় ১০টি আলামত প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত এই পৃথিবী ধ্বংস হবে না।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে নৈতিক অবক্ষয় এবং ছোট আলামতগুলোর বিস্তার দেখে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে কিয়ামত নিয়ে কৌতূহল ও ভীতি বাড়ছে। হাদিসের আলোকে সেই ১০টি বড় আলামত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঈসা আলাইহিস-সালাম এর অবতরণ
কোরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি বর্তমানে চতুর্থ আসমানে রয়েছেন। কিয়ামতের সন্নিকটে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। এবং মিথ্যাবাদী দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
২. দাজ্জালের আগমন
কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হলো–দাজ্জালের আবির্ভাব। সে গুনাহগার, দুর্বল ঈমানদারকে ধোঁকা দিবে। তারা তার ফাঁদে পড়ে যাবে।দাজ্জাল অর্থ মিথ্যাবাদী হবে। আর এজন্যই তাকে দাজ্জাল নামে নামকরণ করা হয়েছে।আল্লাহ তায়ালা তাকে অনেক ক্ষমতা দান করবেন। পৃথিবীতে সে এমন কিছু ঘটাবে যা দেখে মানুষ বিস্মিত হয়ে যাবে।
৩. পশ্চিম দিকে সূর্য উদয়ন
কিয়ামতের আলামতের মধ্যে গুরত্বপূর্ণ আলামত এটি। এটি উদিত হলে বান্দার আমল গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে গতানুগতিক ঈমানদারগণ শরিয়তের বিধিনিষেধ মেনে চলবে।
৪. ইয়াজুজ-মাজুজ এর আগমন
তারা মূলত আল্লাহ তায়ালার ভয়ংকর এক জাতি। কিয়ামত খুব কাছাকাছি চলে এলে দেখা মিলবে তাদের। দুনিয়াতে এসে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। মানবজাতিকে কষ্ট দিবে এবং বিরক্ত করবে।
৫. দাব্বাতুল আরদ প্রকাশ পাবে
কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন এটি। সে মানুষের সহিত কথা বলবে। মানুষকে মুমিন,কাফের বলে শনাক্ত করবে। কিয়ামত ঘনিয়ে এলে এটি পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাবে। মুমিন,কাফের,মুনাফেক–সকলের কাছে-ই পৌঁছে যাবে। মুমিনগণ সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে। কাফের ও মুনাফিকদের সকল ছিদ্রে প্রবিষ্ট হয়ে যাবে। এতে বিদায় নেবে পৃথিবীর ভালো মানুষগুলো। এবং কিয়ামত সংঘটিত হবে দুষ্ট লোকদের ওপর।
৭. ইয়ামেন থেকে একটি আগুন বের হবে
এটি সকল মানুষকে হাঁকিয়ে নিবে হাশরের মাঠ (শামের সিরিয়া) এর দিকে। মানুষ যেখানে গিয়ে বিশ্রাম,রাত্রিযাপন করবে এটিও সেখানে অবস্থান করবে।
৮. তিনটি বড় ভূমিধস
কিয়ামতের ঠিক আগে বড় তিনটি ভূমিধস (Khusuf) হবে যা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেবে। একটি হবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে, একটি পশ্চিম প্রান্তে এবং তৃতীয়টি হবে আরব উপদ্বীপে। এগুলো সাধারণ কোনো ভূমিকম্প নয়, বরং বিশাল এলাকা মাটির নিচে দেবে যাওয়ার ঐশ্বরিক শাস্তি।
৯. মহাজাগতিক পরিবর্তন ও বৃষ্টিহীনতা
কিয়ামতের আগে প্রকৃতি রুদ্রমূর্তি ধারণ করবে। দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে পৃথিবীজুড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। হাদিস অনুযায়ী, দাজ্জালের আগমনের আগে কয়েক বছর বৃষ্টি হবে না, ফলে মাটি পাথর হয়ে যাবে এবং মানুষ খাদ্যের অভাবে হাহাকার করবে।
১০. ঈমানদারদের বিদায় ও চূড়ান্ত প্রলয়
অন্তিম মুহূর্তে একটি শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে, যার মাধ্যমে পৃথিবীর সকল মুমিন বা ভালো মানুষের মৃত্যু হবে। এরপর পৃথিবীতে কেবল পাপিষ্ঠ ও দুষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে। আর সেই পাপিষ্ঠদের ওপরই ইসরাফিল (আ.)-এর শিঙার ফুৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত কিয়ামত শুরু হবে এবং পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।