সারাদেশ

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দিলেন ওসি, এসআইকে প্রত্যাহার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দিলেন ওসি, এসআইকে প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলামকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরী অপহরণ, পুলিশের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে চকরিয়া থানা পুলিশকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে এসআই আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা চাপ এড়াতে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর ছবি ‘চকরিয়া পুলিশ স্টেশন’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ওসি মনির হোসেন। শুধু তাই নয়, ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি তিনি নিজেই তুলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে সমালোচনার মুখে পেজটি ডিঅ্যাকটিভ করা হয়।

এছাড়া নিজের কর্মকাণ্ডকে সঠিক প্রমাণ করতে ওই ছবির সঙ্গে দীর্ঘ স্ট্যাটাসও দেন তিনি, যা ভিকটিমের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় এক তরুণ-তরুণীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে, যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

কিশোরীর বাবা জানান, তার মেয়েকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকেরা ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন। তবে মেয়ের ছবি প্রকাশের বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি বা কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি।

আইনজীবীরা বলছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ভিকটিমের পরিচয় বা ছবি প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কাজ আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

লিগ্যাল নোটিশে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ভিকটিমের সব তথ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ জানাতে বলা হয়েছে, অন্যথায় উচ্চ আদালতে রিট করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ওসি মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, ভিকটিমের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ আইনত নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।