সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এ ঘটনায় চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কলেজে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূচনা হয় বলে উভয়পক্ষের দাবি। তবে কে আগে উস্কানি দিয়েছে, সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। কিছু ব্যক্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে বলে স্থানীয় দোকানদাররা জানিয়েছেন। সংঘর্ষ কলেজ চত্বর ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সেক্রেটারি তামিম, অর্থ সম্পাদক জুহাস এবং মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান ও আরিফুল ইসলাম রয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল, রবিন ও তুহিন আহমেদসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন, আবার কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম জানান, অনুষ্ঠান শেষে গেটের বাইরে সংঘর্ষের খবর পান। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ছাত্রশিবিরের মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান অভিযোগ করেন, কলেজের ভেতরে তাদের নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া দাবি করেন, শিবিরের হামলায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।