সারাদেশ
দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ফেসবুকে বিএনপি নেতা লিখলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের স্বাক্ষর করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে বহিষ্কারের পর ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মতিউর রহমান সাগর। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল আলহামদুলিল্লাহ।’
এর আগে গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও জানা গেছে।