সারাদেশ
অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধ
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে মাছ আমদানিতে বিরাট রকমের ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত শুল্ককর আরোপের ফলে তারা বাধ্য হয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
রোববার সকালে বেনাপোল স্থলবন্দরে গেলে দেখা যায়, মাছ পরিবহনের কোনও ট্রাক বাংলাদেশ অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনি। প্রতিদিন এ পথে মাছ আমদানিতে সরকার প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে।
রাজস্ব বোর্ড সামুদ্রিক মাছের প্রতি কেজি শুল্কায়নের হার ৫০ সেন্ট মার্কিন ডলার নির্ধারণ করলেও, বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ৫০ সেন্টের পরিবর্তে ৭৫ সেন্ট শুল্ক ধার্য করেছে। ফলে আমদানি কারকদের অতিরিক্ত শুল্ক কর দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেনাপোল কাস্টমসের এ অযৌক্তিক শুল্ক আরোপের কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এ পথে মাছ আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক পতন হবে।
তদুপরি, বেনাপোল কাস্টমস আমদানিকৃত প্রতিটি মাছ পরিবহনের ট্রাকে ৮০ শতাংশ মিঠা পানি মাছ (সুইট ফিশ) এবং ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ (সি ফিশ) আমদানির বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। মাছ আমদানিকারকরা জানান, প্রকৃতপক্ষে একটি ট্রাকে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মিঠা পানির মাছ থাকে, বাকি থাকে সামুদ্রিক মাছ। কিন্তু কাস্টমসের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ মিঠা পানির মাছ ঘোষণা করতে হয়, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
মাছ আমদানি কারকের প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান জানান, প্রতি কেজি সুইট ফিশে শুল্ক দিতে হয় ৮৮ টাকা এবং প্রতি কেজি সি ফিশে ৪৬ টাকা। কিন্তু পূর্বে একটি মাছের কার্টুনে ১৩৫ কেজি গ্রোস ওজন থাকলে নিট ওজন হিসেবে ৬৬ কেজি ঘোষণা দিতেন, এখন কাস্টমস বলছে ১০০ কেজি গ্রোস ওজন থাকলে ৫৫ কেজি নিট ওজন ঘোষণা দিতে হবে, যার অর্থ কার্টুনের বরফ, ককশিট ও কার্টুনেরও শুল্ক দিতে হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বেনাপোল বন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা আসওয়াদুল আলম জানান, গতকাল থেকে ভারত থেকে কোন মাছ আমদানি হয়নি, তবে যদি মাছবাহী ট্রাক আসে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা তাদের রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন বলেন, তিনি মাত্র কয়েকদিন আগে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন এবং নতুন শুল্ককর আরোপের বিষয়ে তার জানা নেই। তবে বরফায়িত মাছের ওজন নির্ণয় ও সঠিক রাজস্ব আদায়ের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী তার কাছে অভিযোগ জমা দেয়নি, কিন্তু তাদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সহ সরকারের রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ প্রত্যাহার না হলে এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।