সারাদেশ
দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে ছিনিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু সিদ্দীকসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার আবু সিদ্দীক (৭০) কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশের হেফাজত থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ওই রাতে দর্শনা থানার উপপরিদর্শক মোল্ল্যা আরিফুল ইসলাম রাত্রীকালীন টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের একটি মন্দিরের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আবু সিদ্দীককে আটক করা হয়। তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে পুলিশের ভাষ্য।
একপর্যায়ে তারা সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে তাদের ফেলে যাওয়া নয়টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করা হয়।
পরে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ঘটনায় মোট ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন লক্ষণ (৩৮), ফিরোজ হোসেন (১৯), ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) এবং ফুলন হালদার (৩২)। তারা সবাই দর্শনা চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।