সারাদেশ

ফেনীতে বেড়িবাঁধের ১০ স্থানে ভাঙন, প্লাবিত ১৫ গ্রাম, পানিবন্দী হাজারো মানুষ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৮:২৪ এএম

ফেনীতে বেড়িবাঁধের ১০ স্থানে ভাঙন, প্লাবিত ১৫ গ্রাম, পানিবন্দী হাজারো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব বলে জানা গেছে।

ফলে প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে চিথলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, শালধর এবং পশ্চিম অলকা এলাকায় মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়া মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম গদানগর, জঙ্গলঘোনা, উত্তর মনিপুর দাসপাড়া ও মেলাঘর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর চারটি স্থানে ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভাঙনের ফলে পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া, সাতকুচিয়া, পূর্ব অলকা, মধ্যম মনিপুর, উত্তর ধনীকুন্ডা ও আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানির স্তর হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, পাঁচটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে, তবে স্থানীয়দের মতে, ভাঙনের সংখ্যা ১০টিরও বেশি।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যার পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোর মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় মোট ১৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে রান্না ও শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ৬ লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বন্যার প্রভাব মোকাবিলার জন্য।

বর্তমানে দুর্গত এলাকাগুলোর অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নদীর পানি কমে না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।