সারাদেশ
‘চাকরি রক্ষায় ঘুষ দাবি’ বেনাপোল বন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের চাকরি রক্ষায় ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বন্দরে নতুন দায়িত্ব পাওয়া নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাত সার্ভিস (প্রা.) লিমিটেড-এর অপারেশনাল ম্যানেজার শামিম শিকদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন বর্তমান নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পিমা সিকিউরিটি সার্ভিস-এর ১২৯ জন কর্মী।
বুধবার (১৭ জুলাই) বেনাপোল বন্দর পরিচালকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে পিমা সিকিউরিটির কর্মীরা জানান, চাকরি ধরে রাখতে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করা হয়েছে। এমনকি নতুন প্রার্থী নিয়োগে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘুষ না দিলে চাকরি হারাতে হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
অভিযোগপত্রে তারা আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছি। স্বল্প বেতনের এই চাকরিতে ঘুষ দিয়ে চাকরি বাঁচানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো চুক্তিপত্রে অর্থ লেনদেনের কথা নেই। ঘুষ দাবি অন্যায়, বেআইনি এবং অমানবিক।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, “আল-আরাফাত সার্ভিসের কেউ সরাসরি ঘুষ দাবি করেনি, তবে আমাদের বর্তমান কোম্পানির (পিমা সিকিউরিটি) কমান্ডার আল-আমিন ও সুপারভাইজার মনির এই টাকা দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, আল-আরাফাতে চাকরি করতে হলে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। আর নতুনরা ঢুকতে চাইলে ৫০ হাজার টাকা লাগবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-আরাফাত সার্ভিস প্রা. লিমিটেড-এর অপারেশনাল ম্যানেজার শামীম শিকদার। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান এখনও বন্দরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেনি। আগামী ১ আগস্ট থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবো। এর আগে আমাদের নামে ঘুষের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি একটি চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।”
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, “ঘুষ দাবির অভিযোগ আমাদের কাছে পৌঁছেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে এমন অভিযোগে উদ্বিগ্ন বন্দরের সংশ্লিষ্ট মহল। সাধারণ কর্মীরা যেন হয়রানির শিকার না হন—সে বিষয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।