সারাদেশ
জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি
সিলেট সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট, নদীপথ ও চিহ্নিত রুটে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি স্টেশন ও পরিবহন কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোসহ সন্দেহভাজন রুটগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত থেকে শনিবার (৭ মার্চ) রাত পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল বাড়ানো, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং জ্বালানি তেল পরিবহনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এলাকা, বিভিন্ন স্থলবন্দর, এলসিপি (ল্যান্ড কাস্টমস পয়েন্ট) ও আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্পর্শকাতর সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার সম্ভব না হয়।
এছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং জ্বালানি স্টেশন ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন রুটগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধ পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।