সারাদেশ

গ্রিসে যাওয়ার পথে খাবারের অভাবে সুনামগঞ্জের ১০ জন নিহত, লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

গ্রিসে যাওয়ার পথে খাবারের অভাবে সুনামগঞ্জের ১০ জন নিহত, লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানির সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধার করে গ্রিসের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে মাঝপথে বোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে অনেকেই মারা যান এবং পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দিতে বাধ্য হন সঙ্গীরা।

গ্রিসের একটি ক্যাম্পে অবস্থানরত হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, তিনি নিজেও গত ৬ মার্চ একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি যে ক্যাম্পে রয়েছেন, সেখানেই ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮) রয়েছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, দালালের সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা দেশ ছাড়েন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার বিকেলে গ্রিসে থাকা পরিচিতজনদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা ক্যাম্পেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।