সারাদেশ

প্রাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলে শিক্ষিকার গায়ে হাত তুললো ৯ম শ্রেণির ছাত্র 


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম

প্রাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলে শিক্ষিকার গায়ে হাত তুললো ৯ম শ্রেণির ছাত্র 
ছবিঃ ঢাকা প্রকাশ

প্রাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষিকা ও ছাত্রের দ্বন্দ্বে শ্রেণিকক্ষে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে ছাত্রের গায়ে হাত তোলেন শিক্ষিকা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্রও শিক্ষিকার গায়ে হাত তোলেন। ঘটনায় ক্ষোভে ফুসে ওঠে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সালিশি বৈঠকে সমাধান হলেও এই বিচারে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ঘটেছে এমন ঘটনা।  

জানা যায়, উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপিনপুর আষাঢ়িয়া চালা ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ও ৯ম শ্রেণির ছাত্র মেহেদীর মধ্যে প্রাইভেট পড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত ২১ জুন সোমবার দুপুরে ৯ম শ্রেণির ক্লাসে মেহেদীর সঙ্গে শিক্ষিকার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অসদাচরণের দায়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করতে একটি চড় মারেন শিক্ষিকা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদীও শিক্ষিকাকে কিল-ঘুষি মারে। ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে তিন শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

এ ঘটনার দুই দিন পর গত ২৪ জুন বুধবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের নিয়ে সালিশি বৈঠক করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বৈঠকের সিদ্ধান্তে মেহেদীকে জুতাপেটা করা হয়, শিক্ষিকার পা ধরে মাফ চাওয়ানো হয় এবং তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি মেহেদীর বাবা, একই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছবুর মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে শোকজ করা হয়েছে। তবে এ বিচারে সন্তুষ্ট নন শিক্ষিকা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে মেহেদী ম্যামের নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছিল। ক্লাসে তর্কের একপর্যায়ে ম্যাম শাসন করলে মেহেদী তাকে লাঞ্ছিত করে। এমন ঘটনায় তারা মেহেদীর কঠোর শাস্তি দাবি করছে।

মেহেদী স্বীকার করে বলেন, ওই ম্যাডামের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় তিনি রাগারাগি করেন। পরে আরেক ম্যাডামের কাছে বিচার দেওয়ায় ক্লাসে চড় মারেন। ক্ষোভে আমিও কিল-ঘুষি মারি।

মেহেদীর বাবা ছবুর মিয়া বলেন, অসদাচরণ করায় শিক্ষিকা তার ছেলেকে চড় মারে। ক্ষোভে মেহেদীও ম্যাডামকে মারধর করে। বিষয়টি সমাধান হলেও তিনি মানছেন না। 

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার বলেন, সালিশি বৈঠকের বিচারে তিনি সন্তুষ্ট নন। কঠোর শাস্তি না হওয়ায় তিনি বিদ্যালয়ে আর ফিরতে চান না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সালিশি বৈঠকে সবার উপস্থিতিতে সমাধান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের সম্মতিতে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারসহ তার বাবাকেও শোকজ করা হয়েছে।