সারাদেশ

নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুট, সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে হত্যা  


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ এএম

নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুট, সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে হত্যা  
ছবিঃ সংগৃহীত

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুট ও হত্যার ঘটনায় হাসিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার বিক্রির সঙ্গেও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ফাতেমা বেগমকে অচেতন করে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার লুটের পর শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে যায় প্রতারক চক্র। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ২৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের ৮৫-৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে চোখে চশমা, মুখে মাস্ক পরা এবং সঙ্গে আড়াই বছরের একটি শিশু থাকা এক নারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা স্বীকার করেন, তিনি মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতেন। ঘটনার দিন উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর সঙ্গে পরিচয়ের পর বিশ্বাস অর্জন করে তিনি ফাতেমাকে নিজের সঙ্গে রিকশায় ওঠান। পরে একটি জুসের সঙ্গে আগে থেকে গুঁড়া করে রাখা 'জিওনিল' নামের ৬-৭টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে পান করান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অচেতন হয়ে পড়ার পর ফাতেমা বেগমের গলা ও হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে নদীপাড় এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। পরে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন হাসিনা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং পুরো চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।