সারাদেশ
আইজিপি পরিচয়ে ওসিকে ফোন, যুবকের ১ মাসের কারাদণ্ড
নিজেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পরিচয় দিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করে মামলার আসামি গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জবাবদিহি চান এক যুবক। সন্দেহজনক আচরণের কারণে প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে মোট এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় আইজিপি পরিচয়ে ওসিকে ফোন করে প্রতারণার অভিযোগে মো. জহিরুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলার বাঘবের ইউনিয়নের পূর্ব বহুলী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলামের সরকারি মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কলকারী নিজেকে পুলিশের আইজিপি পরিচয় দিয়ে একটি মামলার আসামি কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একপর্যায়ে ওসির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, কলারের কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পরে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশারফ হোসাইনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তকে হাজির করা হয়।
আদালত বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশ ধারণের অপরাধে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ৭০(১) ধারায় ভয়ভীতি ও প্রতারণামূলকভাবে টেলিযোগাযোগ ব্যবহারের অপরাধে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। সাজা পর্যায়ক্রমে ভোগ করতে হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও নিজেকে আইজিপি পরিচয় দিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম আগে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় বলে পরিবার দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।