সারাদেশ

‘মা তো প্রতিদিন ফিরত, আজ কেন ফিরল না?’ দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুতে ছেলের আহাজারি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম

‘মা তো প্রতিদিন ফিরত, আজ কেন ফিরল না?’ দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুতে ছেলের আহাজারি
ছবিঃ সংগৃহীত

‘মা... মা...’ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের করিডোরজুড়ে বারবার ভেসে আসছিল ১৫ বছর বয়সী বিজয় দত্তের আর্তনাদ। মায়ের মরদেহের অপেক্ষায় বিলাপ করতে করতে সে বলছিল, ‘এমন তো কখনো হয়নি। মা তো প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরত। আজ কেন আসছে না? আমার মা কই?’

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারার কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক মোড়ে শ্রমিকবাহী একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারান বিজয়ের মা কলি দত্ত (৩৫)। একই দুর্ঘটনায় আরও এক নারী, ইফা শীল (৪০), নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ২১ জন।

নিহত কলি দত্ত কোরিয়ান ইপিজেডে (ইয়াংওয়ান) পোশাকশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মায়ের মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে বিজয় দত্ত বলেন, ‘মা সকালে আমাদের জন্য রান্না করে অফিসে যেত। সারাদিন কাজ করার পর সন্ধ্যায় ফিরে আবার সংসারের সব কাজ করত। আমাদের জন্য ৭-৮ বছর ধরে এত কষ্ট করেছে। আজ কেন ফিরল না?’

বিজয় আনোয়ারা বারখাইন ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। বড় ভাই সৈকত দত্ত কলেজে ভর্তি হলেও পারিবারিক সংকটে পড়াশোনা নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারেননি। বাবা কাজল দত্ত একজন প্রান্তিক কৃষক। সংসারের হাল ধরতে স্বামীর পাশাপাশি কলি দত্তও কঠোর পরিশ্রম করতেন।

হাসপাতালের সামনে স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন কলি দত্তের বৃদ্ধ বাবা। চোখ ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে সংসারটা আগলে রাখছিল আমার মেয়ে। এভাবে চলে যাবে, ভাবতেই পারছি না।’

বড় বোন জলি দত্ত বলেন, ‘আমার বোন সারাজীবন সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঠিকই বাড়ি ফিরত। কিন্তু একটা বেপরোয়া বাস তার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। এখন এই দুই ছেলেকে নিয়ে কী হবে?’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনোয়ারা টানেল সংযোগ চত্বরে কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকবাহী দ্রুতগতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী নিহত হন এবং আরও ২১ জন আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজনু মিয়া জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তাদের আটকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কোরিয়ান ইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স ও সার্ভিস ইন্স্যুরেন্স নীতিমালা অনুযায়ী নিহত শ্রমিকের পরিবার প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাবে।