সারাদেশ
নেত্রকোনার বড়বাজারে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তিন কর্মীসহ আহত ৫
নেত্রকোনা শহরের বড়বাজার বাণিজ্যিক এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি আবাসিক বাসা পুড়ে গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তিন কর্মীসহ ৫ জন।
গতকাল শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি প্লাস্টিকের খেলনার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের দোকান, একটি ব্যাংকের ছাদ ও বাণিজ্যিক ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে উত্তম মজুমদারের মালিকানাধীন মজুমদার ইলেকট্রনিক্সের তিনটি দোকান, আরিফ স্টোর জুতার দোকান, অপর এক ব্যবসায়ীর একটি দোকান এবং ননন্দবাসীর একটি আবাসিক বাসা পুড়ে যায়। এছাড়া আশপাশের কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবর পেয়ে প্রথমে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ময়মনসিংহ থেকে অতিরিক্ত ইউনিটসহ মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।সংবাদ প্রতিবেদন
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী (পিএফএম) বলেন, বড়বাজারের আগুন মানেই বড় ঝুঁকি। প্রতিটি দোকানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য মালামাল মজুদ থাকায় আমরা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ থেকে মোট ১০টি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে আগুন ব্র্যাকেট করে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নেভানোর সময় ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য সামান্য অসুস্থ হয়েছেন। এছাড়া বাইরে আরও দুজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাদের কেউই আশঙ্কাজনক নন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ড্যাম্পিং ডাউন কার্যক্রম চলছে। দোকানের ভেতরে থাকা টিন, হার্ডবোর্ডের র্যাক ও অন্যান্য মালামালের মধ্যে আগুনের লুকানো অংশ সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এখন আগুন ছড়িয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
এইদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলাহ্ আল বাকিউল বারিসহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী।