সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় কলাগাছের ভেলা বাইচে মাতল হাজারো মানুষ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ এএম

কুষ্টিয়ায় কলাগাছের ভেলা বাইচে মাতল হাজারো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বড়ুরিয়া খালে ব্যতিক্রমী কলাগাছের ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসবে মেতেছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। নৌকা বাইচের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত হলেও কলাগাছের ভেলায় চড়ে এমন প্রতিযোগিতা সচরাচর দেখা যায় না। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা দেখতে খালের দুই পাড়ে নামে মানুষের ঢল।

চড়াইকোল হয়তাপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বড়ুরিয়া খালে দুই দিনব্যাপী এ কলাগাছের ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। খেলার সময় খালের দুই পাড়ে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরও দেখা যায়।

আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন আয়োজনকে ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় মানুষের জন্য সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এই ভেলা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ছিলেন চারজন করে মাঝি। খালের পানিতে কলাগাছের তৈরি ভেলায় প্রতিযোগীদের ছুটে চলা দেখতে দর্শকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

শনিবার অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ‘ঝঙ্কার এক্সপ্রেস’ ও ‘তামিম ডেকোরেটর’। শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে ‘ঝঙ্কার এক্সপ্রেস’। আর রানার্সআপ হয় ‘তামিম ডেকোরেটর’।

এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী প্রতিযোগিতায় ‘গ্রাম বাংলা এক্সপ্রেস’ তৃতীয় এবং ‘ভাই ভাই এক্সপ্রেস’ চতুর্থ স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন দল ‘ঝঙ্কার এক্সপ্রেস’-কে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি বড় খাসি ছাগল। রানার্সআপ ‘তামিম ডেকোরেটর’ পায় একটি ছোট খাসি ছাগল। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী ‘গ্রাম বাংলা এক্সপ্রেস’ ও ‘ভাই ভাই এক্সপ্রেস’-কে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি করে দেশি মোরগ দেওয়া হয়।

খেলা দেখতে আসা দর্শক সেলিনা বেগম বলেন, ‘আগে নৌকা বাইচ দেখেছি, কিন্তু কখনো এমন ভেলা বাইচ দেখিনি। আজ এসে খুব ভালো লাগল। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি, সেও খেলা দেখে দারুণ খুশি।’

ষাটোর্ধ্ব মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে এই প্রথম এমন কলাগাছের ভেলা বাইচ হলো। আমরা সবাই দারুণ আনন্দ পেয়েছি। চাই, এমন আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত হোক।’

বাইচ আয়োজক কমিটির সদস্য আবু কাউসার অপু বলেন, ‘গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত। তাই তাদের একটু আনন্দ দিতেই আমরা এই ব্যতিক্রমী কলাগাছের ভেলা বাইচের আয়োজন করেছি। নারী-পুরুষসহ এলাকার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি আমাদের আয়োজনকে সার্থক করেছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।’

স্থানীয়দের মতে, আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও আয়োজনগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এমন আয়োজন একদিকে যেমন স্থানীয়দের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কাছেও তুলে ধরছে বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিন্নধর্মী রূপ।