সারাদেশ
মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২৪ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ২৪ জেলেকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ২৮ জেলের কাছ থেকে এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১৫ কেজি মা ইলিশ ও মাছ ধরার ছয়টি নৌকা জব্দ করা হয়। আটক অন্য চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশীদ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এ অভিযান চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম। তিনি অভিযানের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করেন।
প্রশাসন জানায়, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ শিকার করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে জব্দ করা এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া মাছ ধরার ছয়টি নৌকা কোস্টগার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। জব্দ করা ১৫ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এবং মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা টাস্কফোর্স কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।