সারাদেশ

নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৮, একই পরিবারের ৭ জন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৪:৫৭ পিএম

নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৮, একই পরিবারের ৭ জন
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে করুণ পরিণতি হয়েছে একটি পরিবারের জন্য। প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট আটজন। বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুইজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮-এ।

দুর্ঘটনাটি ঘটে সকালে, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায়। সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি মাইক্রোবাস আরেকটি যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে।

দুর্ঘটনাস্থলেই ৫ জন মারা যান। আহত তিনজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পরে সেখানেও মারা যান তারা।

নিহতরা হলেন- আনোয়ারা বেগম (৭৫), আঞ্জুমান আরা বেগম (৭৪), জাহিদুল ইসলাম (৬৫), সেলিনা বেগম (৫৫), ইতি খাতুন (৪৫), আমেনা বেগম (৫০), সীমা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাসটির চালক সাহাব হোসেন রুবেল (৩৫)।

চালক রুবেলের বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায়। বাকি সবাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদাহ গ্রামের বাসিন্দা এবং একই পরিবারের সদস্য।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজিম উদ্দিন জানান, কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জগামী মাইক্রোবাসটি দ্রুতগতিতে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা গাড়ির ভেতরেই চাপা পড়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাব-ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল রাজ্জাক জানান, নিহতদের বেশিরভাগই তার আত্মীয়। তারা সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার নান্দীরামধু গ্রামে অসুস্থ আত্মীয় শাফিয়া বেগমকে দেখতে যাচ্ছিলেন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, “মরদেহ হস্তান্তর ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তও করা হচ্ছে।”