সারাদেশ
কবর খুঁড়ে পাওয়া গেল ‘আল্লাহু’ লেখা পাথর, এলাকায় চাঞ্চল্য
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কবর খননের সময় ‘আল্লাহু’ লেখা পাথর সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এগুলো বহু প্রাচীন ও মূল্যবান নিদর্শন হতে পারে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অলৌকিক কারণ দেখিয়ে পাথরগুলো পুনরায় কবরে রেখে আসার কথা বলা হলেও তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে কালুকান্দর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মণ্ডল মারা যান। তার কবর খননের সময় শ্রমিক বাহার আলী, শরিফুল ইসলাম ও শফিউদ্দিন এক কোমর মাটি খুঁড়তেই কালো, সাদা, ধূসর ও বাদামি রঙের পাঁচটি পাথর সদৃশ বস্তু খুঁজে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাথরগুলোর নিচের অংশে ‘আল্লাহু’ লেখা ছিল। পরে কৌতূহলী গ্রামবাসী সেগুলো সাময়িকভাবে বাহার আলীর কাছে সংরক্ষণে রাখেন।
দাফনের চারদিন পর মৃতের বড় ছেলে ইউনুস আলী পরিবারের সদস্যদের দেখানোর কথা বলে পাথরগুলো নিজের কাছে নিয়ে যান। পরদিন সেগুলো ফেরত চাইলে তিনি দাবি করেন, মুরব্বিদের পরামর্শে ফজরের নামাজের পর পাথরগুলো আবার তার বাবার কবরে রেখে এসেছেন।
তবে ইউনুস আলীর এই বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, মূল্যবান এই বস্তু আত্মসাৎ বা পাচারের উদ্দেশ্যেই এমন গল্প তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পাথরগুলো উদ্ধারের দাবিতে তিনবার শালিস বৈঠক ডাকলেও ইউনুস আলী মাত্র একটিতে উপস্থিত হন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পাথরগুলো সত্যিই কবরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কবর পুনরায় খনন না করার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে ইউনুস আলীর অনুপস্থিতি এবং পরিবারের বক্তব্যে অসংগতি থাকায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ আরও বাড়ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুর করিম আরজু জানান, পোরশা অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রাচীন হওয়ায় মাটির নিচে পুরোনো নিদর্শন থাকা অস্বাভাবিক নয়। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো কোনো প্রাচীন সভ্যতার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে ওই এলাকায় খননকাজ চালিয়ে আরও পুরাকীর্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।