সারাদেশ
প্রেমিকাকে বেড়াতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি
নাটোরের লালপুরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক তরুণীকে বেড়াতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আশিক নামে এক যুবক ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ধর্ষণের সময় ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করে পরে সেই ভিডিও পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার বিকেলে লালপুর ডিগ্রি কলেজের পাশে একটি ফাঁকা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে আশিক, শাকিল ইসলাম বাঁধন ও কাজল নামে তিন যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, মুঠোফোনের মাধ্যমে আশিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় এক মাসের ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে শনিবার বিকেলে আশিকের সঙ্গে লালপুরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে বেড়াতে যান তিনি। পরে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে আশিক তাকে রিকশায় করে লালপুর ডিগ্রি কলেজের পাশে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই আশিকের দুই বন্ধু শাকিল ও কাজল উপস্থিত ছিলেন।
তরুণীর অভিযোগ, ওই দুই বন্ধুর সহযোগিতায় আশিক প্রথমে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে শাকিল ও কাজলও পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় অভিযুক্তদের একজন মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রিকশায় করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জানান, সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে প্রথমে তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি। পরে শনিবার সন্ধ্যায় তার মুঠোফোনের বার্তা আদানপ্রদানের মাধ্যমে ব্যবহৃত নম্বরে ধর্ষণের ভিডিও পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ১৫ হাজার টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানার পর রাতেই লালপুর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার লালপুর ডিগ্রি কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরিকল্পিতভাবে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি পুলিশের হেফাজতে নিরাপদে আছেন। তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার তিন অভিযুক্তকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।