সারাদেশ

দুর্গম চরাঞ্চলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে তরুণদের ব্যতিক্রমী প্রচারণা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

দুর্গম চরাঞ্চলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে তরুণদের ব্যতিক্রমী প্রচারণা
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাচ্ছেন একদল তরুণ। দুর্গম চর, কাঁচা রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে তারা গ্রাম থেকে গ্রামে, কৃষকের মাঠে, শ্রমিকের কর্মস্থলে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

 

Char Rajibpur - Yes Vote-1.jpg
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

প্রচারণায় তরুণরা সহজ ভাষায় বোঝাচ্ছেন- গণভোট কী, কেন গণভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এই গণভোটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজের মতামত জানাতে পারেন। তারা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, এই উদ্যোগ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়; বরং এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথ নির্ধারণে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়াস। পোস্টার, লিফলেট ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

Char Rajibpur - Yes Vote-6.jpg
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

এই প্রচারণার অন্যতম উদ্যোক্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন। গণভোট সেই দূরত্ব কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। তাঁর ভাষায়, “এই ভোট কোনো দল বা ব্যক্তির জন্য নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে-সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ। চরাঞ্চলের মানুষের একটি ভোটও সমান মূল্যবান, এই বার্তাই আমরা পৌঁছে দিতে চাই।”

 

Char Rajibpur - Yes Vote-3.jpg
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

অপর উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম বলেন, অনেকেই গণভোট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তাই শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রচারণা নয়, বরং মানুষের কাছে গিয়ে মুখে-মুখে বোঝানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তিনি বলেন, “কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে বসে কথা বললে তারা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। যখন তারা জানতে পারেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে সম্মতি-তখন তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।”

 

Char Rajibpur - Yes Vote-4.jpg
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

আরেক উদ্যোক্তা সুজন মাহমুদ বলেন, এই উদ্যোগ তরুণদের হলেও এর লক্ষ্য সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা। তিনি জানান, হেঁটে, ভ্যানে ও মোটরসাইকেলে করে দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে তারা এই প্রচারণা চালাচ্ছেন। “আমরা চাই মানুষ ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করুক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার ও শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য,” বলেন তিনি।

প্রচারণাকালে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের বক্তব্যেও গণভোট নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা উঠে আসে। চর রাজিবপুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা মাঠে কাজ করি, বড় সিদ্ধান্তের কথা অনেক সময় বুঝি না। এই তরুণরা এসে সহজ করে বুঝিয়েছে গণভোট কী। এখন মনে হচ্ছে, আমার একটি ভোটও দেশের জন্য দরকার।” এক দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো দলের ভোট না-এই কথাটাই আমাদের ভালো লেগেছে। যদি এতে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”

 

Char Rajibpur - Yes Vote-5.jpg
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

এছাড়া স্থানীয় নৌকার মাঝি মজনু মিয়া জানান, চরাঞ্চলের মানুষ প্রায়ই মূলধারার আলোচনা থেকে বাদ পড়ে যায়। “গণভোট সম্পর্কে আগে তেমন জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি, এতে অংশ নিলে আমাদের কথাও রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাবে,” বলেন তিনি।

 

yes-no-vote.jpg

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, চর রাজিবপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় এই প্রচারণা কেবল একটি ভোট আহ্বান নয়, বরং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার একটি সচেতনতা আন্দোলন। আয়োজকদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষ গণভোটের গুরুত্ব অনুধাবন করে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নিজেদের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।