সারাদেশ

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর, তারপর...


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর, তারপর...
প্রতীকী ছবি

বাসররাতেই বদলে গেল সব হিসাব। বিয়ের আনন্দ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রূপ নেয় অভিযোগ, সন্দেহ আর আইনি লড়াইয়ে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ঘটে যাওয়া এক বিয়েকে ঘিরে এখন জেলাজুড়ে তুমুল আলোচনা—অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের সময় যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে ছিলেন অন্য একজন নারী।

পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবিরের সঙ্গে গত বছরের ১ আগস্ট বিয়ে হয় রাণীশংকৈলের ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে বাসরঘরে যাওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। বর পক্ষের দাবি, কনে মুখ ধোয়ার পর রায়হান কবির বুঝতে পারেন—তিনি যাকে বিয়ে করেছেন, তিনি সেই নারী নন যাকে আগে দেখানো হয়েছিল।

এই ‘কনে বদল’ অভিযোগের জেরে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। পরদিনই কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ একাধিকবার বসেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এরই মধ্যে শুরু হয় মামলা-পাল্টা মামলার পালা।

গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানের বিরুদ্ধে। পাল্টা জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির মামলা করেন কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে। উভয় মামলার প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরের মামা বাদল সাংবাদিকদের জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে পাত্রী দেখা হয়েছিল একটি চায়ের দোকানে। মেয়েটিকে পছন্দ হওয়ায় দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়েপক্ষ নতুন করে পাত্রী দেখানোর প্রয়োজন নেই জানিয়ে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়। তাদের দাবি, অতিরিক্ত সাজসজ্জার কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি।

অন্যদিকে, কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, মেজো মেয়েকেই বিয়ের আগে ছেলেপক্ষ বাড়িতে এসে দেখে গেছে। প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত থাকা অবস্থায় কনে বদলের অভিযোগ অবাস্তব। তিনি বরং পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পরদিনই ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়, যা দিতে না পারায় এখন মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

ঘটক মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ নাকচ করে জানান, পাত্রী দেখানো হয়েছিল মেয়ের বাবার বাড়িতেই। পরবর্তী ঘটনায় তার কোনো ভূমিকা নেই।

ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, বিষয়টি এখন পুরোপুরি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।