সারাদেশ

ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম

ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি মরদেহ আটকে রাখার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোরে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী ও ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকে। পরে দুপুর ১টার দিকে তা পুনরায় চালু হয়।

অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর নূর নাহার বেগমের মরদেহ আইসিইউতে রাখা হয় এবং পরিবারের কাউকে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বাধা দিয়ে মরদেহ মর্গে নিয়ে যান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ আসিফ বলেন, চিকিৎসক মারধরের প্রতিবাদেই তারা আন্দোলন করছেন, কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।

পরে অভিযুক্ত রিফাত হোসেন পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে জড়ো হন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। তারা রিফাতকে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর দাবি জানান। একপর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এরপর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে মরদেহ সাময়িকভাবে মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছিল এবং পরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।