বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি
মহাকাশে মিষ্টি কুমড়া রান্না করে খেলেন চীনের নভোচারীরা
চীনের মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগং-এ এক মাস সফলভাবে কাটিয়েছেন হংকংয়ের প্রথম নভোচারী লাই কা-ইং এবং তার দুই সহযাত্রী। এই সময়ের মধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি মহাকাশেই ওভেনে বেক করা তাজা মিষ্টি কুমড়া খেয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিয়েছেন তারা।
চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, লাই কা-ইং, ঝু ইয়াংঝু ও ঝাং ঝিইউয়ান স্পেস ওভেনে মিষ্টি কুমড়োর টুকরো বেক করছেন। সীমিত পরিবেশে এমন ঘরোয়া খাবারের আয়োজন তাদের দৈনন্দিন জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গত এক সপ্তাহে তিন নভোচারী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মহাকাশ চিকিৎসাবিজ্ঞানের অংশ হিসেবে তারা আলট্রাসাউন্ড যন্ত্রের মাধ্যমে একে অপরের ঘাড়, কবজি ও পেট স্ক্যান করেন। এসব তথ্য ক্ষুদ্র মাধ্যাকর্ষণে রক্তপ্রবাহ, রক্তনালির কার্যক্রম এবং পেশির পরিবর্তন বিশ্লেষণে কাজে লাগানো হবে।
এ ছাড়া মহাকাশে ব্যবহৃত রোবটের সঙ্গে সমন্বয় করে স্পর্শভিত্তিক নানা পরীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষকদের আশা, এসব তথ্য ভবিষ্যতে কক্ষপথে পরিচালিত রোবটের কার্যক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।
নভোচারীরা ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) যন্ত্র ব্যবহার করে আলোর ভিন্ন পরিবেশে দৃষ্টিশক্তি, মোটর দক্ষতা ও আচরণগত প্রতিক্রিয়া নিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাবিদ্যার বিশেষ ডায়াগনস্টিক যন্ত্র দিয়ে শারীরবৃত্তীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে চীন শেনঝৌ-২৩ মানববাহী মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে। এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানসংক্রান্ত পরীক্ষা পরিচালনা করা, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
সূত্র: চায়না ডেইলি