নিয়মিত সফরে চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি স্বচ্ছ হয়

১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৮ পিএম | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৪২ এএম


নিয়মিত সফরে চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি স্বচ্ছ হয়

আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে প্রথমত আমাদের স্বাগত জানাতে হবে। কারণ, যত বেশি সফর হবে, তত বেশি দুই দেশের মধ্যে সেটি একটি অভ্যাসে পরিণত হবে। যে অভ্যাসটি এখন আমাদের নেই, অর্থাৎ আমি বলব, ঝগড়াঝাটি যেমন একটি অভ্যাসে পরিণত হয় তেমনি পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোও একটি অভ্যাসের বিষয়। পরস্পরকে সহযোগিতা করতে করতে একটি অভ্যাস পরিণত হয়। আর এভাবেই বড় বড় সমস্যাগুলো সমাধানের পথ তৈরি হয়।

আমি যদি নাই কথা বলি, পাঁচ বছর অথবা দশ বছর পরে যদি একবার দেখা হয়, সেটি কখনো অভ্যাসে পরিণত হবে না। আর সমস্যা সমাধানও হবে না। সে জায়গায় আমাদের সফরটি সেভাবেই দেখা দরকার এবং আমি মনে করি এটি আরও বাড়ানো দরকার।

সবসময় যে আনুষ্ঠানিকতা থাকতে হবে, লাল গালিচা সংবর্ধনা, এগুলোও কমিয়ে ফেলা উচিত। উদাহরণস্বরূপ আমরা ফ্রান্স ও জার্মানির দিকে আমর তাকাতে পারি। যারা সকালে যাচ্ছে, বিকালে চলে আসছে এবং তেমন কোনো অনুষ্ঠানও হচ্ছে না। তারা ঠিকই আলোচনায় বসে চলে আসছে।

মানুষতো অভ্যাসের দাস। আমি মনে করি, সেখানে একটি অভাব আছে। সেই অভ্যাসটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সেভাবে দেখা যায় না। যে কারণে আমরা সেভাবে অগ্রসর হই না। নতুন কিছুও করা যায় না। যেটি হয় যে, একটি দিধা শঙ্কা বিরাট হয়ে উঠে যে, সাংঘাতিক কিছু হবে কি না! কিন্তু চর্চার অভাব আমরা দেখেছি। সেটি থেকেই আমি বলব, আমাদের সফরগুলো নিয়মিত হওয়া ও আরও বেশি বাড়ানো দরকার। তাহলে সেটি আস্তে আস্তে অভ্যাসে দাঁড়াবে। তারপর বড় বড় সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে। আপনি দেখবেন, আত্নীয়ের বাড়িতে যাতায়াত না থাকলেও সম্পর্কে ভাঁটা পড়ে।

এবারের সফরে এমনিতেতো খুব বেশি আশাব্যঞ্চক কিছু হয়নি। সাতটির মত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুব বেশি বড় চুক্তিও না। যেগুলো হয়তো প্রধানমন্ত্রী না করলেও পারতেন। ভবিষ্যতে এগুলো অন্যরূপ নেবে কি না সেটিও একটি বিষয়। তবে এই সফরটিই বড় কিছু বলে আমি মনে করি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। জাতিসংঘে ভারত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে হয়তো সমাধান হতে পারে। এ ছাড়া, সীমান্ত হত্যা বন্ধের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় দেশের মেজর ইস্যুগুলো নিয়ে সমাধান হয়নি। তবে একটি সফরে সবকিছু আশা করাও ঠিক নয়।

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের উন্নতি বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় সফর বেশি করা উচিত। যেন চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হয়। যেকোনো সফরেই আনুষঙ্গিক ব্যাপারগুলোতো আছেই। তার চেয়েও বড় কথা, আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইন পারসন যেসব আলোচনা হয়। যে আলোচনায় তারা খোলামেলাভাবে চেষ্টা করে। বিভিন্ন ধরণের যে সমস্যাগুলো হয়, সেগুলো খোলামেলাভাবে আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে মোকাবিলা করবে।

এসব নিয়ে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অথবা চুক্তিও ঠিক হয় না। তবে সেটি একটি প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। যেমন, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে তারা কি ধরনের অবস্থান নেবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত কতটুকু সহায়তা করতে পারে। এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় থাকে। যেগুলো হয়ত পাকলিকলি সেভাবে প্রকাশ করা হয় না। তবে কথাবার্তায় বোঝা যায় যে, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, এগুলো কিন্তু সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সেখানে বাংলাদেশ ভারত কী করতে পারে, সেই আলোচনাগুলো যেহেতু হয়েছে। আমাদের আশা থাকবে যে, ভাল পদক্ষেপ তারা নেবে। জ্বালানি সংকট পড়েছে, বিশ্ব ও বাংলাদেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ। সেখান থেকেও তারা উঠে আসতে পারবে।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্লেষক


খালেদা জিয়াকে নিয়ে তুরস্কের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ

০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪৯ পিএম | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১১:১৬ এএম


খালেদা জিয়াকে নিয়ে তুরস্কের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া । ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে তুরস্কের গণমাধ্যম। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি ‘বিরোধীদলীয় নেতাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও দুইবারের প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বরাতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীনে রয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ফরোয়ার্ড করা আপিলকে ‘না’ জানিয়ে বলেছেন, মন্ত্রণালয় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দিতে পারে না।‌ সরকারের আইনগত অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সব কাজ আইনি কাঠামো অনুযায়ী করতে হবে। আইনকে বাইপাস করা, যে কোনো ক্ষেত্রেই একটি খারাপ উদাহরণ তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা আরও বলা হয়, ৭৮ বয়সী বেগম জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন গত ৯ আগস্ট থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং উচ্চ লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

প্রতিবেদনে গত শনিবার ভয়েস অব আমেরিকায় প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশে চিকিৎসার অনুমোদন নেওয়ার আগে খালেদা জিয়াকে অবশ্যই কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়ার দল অবশ্য তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে এবং খালেদা জিয়াকে তার অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে অবিলম্বে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের বরাতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুপারিশ করেছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে বিদেশে একটি উন্নত মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি সেন্টারে পাঠানো দরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। কোভিড মহামারি চলাকালে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ, বর্তমান সরকার তাকে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাড়িতে থাকা এবং দেশ ছেড়া যাবে না এই দুই শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।

 


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৩৯ পিএম | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১১:১৫ এএম


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভারতের মেঘালয় রাজ্য। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।

গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনবার দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ২। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে টাঙ্গাইলে।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত–মিয়ানমার সীমান্ত। এ ছাড়া ৯ সেপ্টেম্বর আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামের কাছাড় এলাকা।

আগস্ট মাসে দুই দফায় বাংলাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মধ্যে একটি অনুভূত হয় ২৯ আগস্ট। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট। এর আগে ১৪ আগস্ট আরেকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তবর্তী সিলেটের কানাইঘাট এলাকায়।


কোভিড-১৯ টিকার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন দুই বিজ্ঞানী

০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:২৬ পিএম | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১১:১৫ এএম


কোভিড-১৯ টিকার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন দুই বিজ্ঞানী
নোবেল পুরস্কারজয়ী কাতালিন কারিকো ও ড্রু ওয়েইজম্যান

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান রাখায় এ বছর নোবেল পুরস্কার জিতলেন কাতালিন ক্যারিকো ও ড্র ওয়াইজম্যান। সুইডেনের নোবেল অ্যাসেমব্লি অ্যাট ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউট সোমবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে তাদের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, নিউক্লিওসাইড বেজ মডিফিকেশন সংক্রান্ত আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসায় ২০২৩ সালের নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে কাতালিন কারিকো ও ড্রু ওয়েইজম্যানকে। তাদের এ আবিষ্কারের ওপর ভর করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর এমআরএনএ টিকা উদ্ভাবন করা হয়।

১৯০১ সাল থেকে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এ যাবত ১২ জন নারী চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছেন।

চিকিৎসায় সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হরেন ফ্রেডরিক জি. ব্যান্টিং। তিনি ইনসুলিন আবিষ্কারের জন্য ১৯২৩ সালে নোবেল পেয়েছিলেন। চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি বয়সী নোবেলজয়ীর নাম পেটন রৌস। তিনি ৮৭ বছর বয়সে এ পুরস্কার পান।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার। ১৮৯৫ সালে এক উইলে ‘মানবজাতির সর্বোচ্চ সেবায় অবদান রাখা’ ব্যক্তিদের জন্য এই পুরস্কার নিবেদিত করেছেন তিনি।

নোবেল পুরস্কারের মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কারটি সোমবার সুইডেনের স্টকহোমে ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার। বুধবার রসায়ন ও বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে সাহিত্যের পুরস্কার।

আগামী শুক্রবার অসলো থেকে ঘোষণা করা হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত নোবেল শান্তি পুরস্কার। আর অর্থনীতির পুরস্কারটি ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।


বিভাগ : সারাবিশ্ব

বিষয় : নোবেলজয়ী


অনুসরণ করুন