ডেঙ্গু প্রশমনে জনকল্যাণমুখী চিন্তাভাবনা দরকার

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:২২ পিএম | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২৬ এএম


ডেঙ্গু প্রশমনে জনকল্যাণমুখী চিন্তাভাবনা দরকার

প্রতি বছরই আমরা দেখছি ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ছে। এখনতো শহরাঞ্চলসহ উপজেলা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। এর বাইরে যেখানে পাকা দালানকোঠা, রাস্তাঘাট, গাড়ি ঘোড়া, বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, সেখানে এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। আমরা এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণ করব সেটি পারছি না । আর যত জন রোগী আছে, তাদের প্রত্যেককে যদি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলি, তখন ডেঙ্গুর ভাইরাসের উৎস নষ্ট হবে ।

এখন আমরা যদি আমাদের নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মনযোগ না দেই, হেলাফেলায় রেখে দিই, যা হয় হবে ভেবে থাকি, তাহলে কিন্তু আমরা ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে না।

আমাদের নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই অবহেলিত। এখানে বড় বড় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মানেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন না। রোগী হলেই আপনি হাসপাতালে যাবেন। রোগ যেন না হয় আপনাকে প্রথমত সেটি দেখতে হবে। সমস্থ রোগী তো আর সমস্ত হাসপাতালে যেতে পারে না। কাজেই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করা এগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেঙ্গু হচ্ছে মশা থেকে। এর কারণ শহরের পরিবেশটা নোংরা থাকে। শহরকে যতক্ষন পরিচ্ছন্ন করতে পারব, তখন ডেঙ্গুকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। সারা পৃথিবীতে ডেঙ্গু আছে। কিন্তু আমাদের দেশের মত এত ব্যাপক বিস্তৃতি নাই। কলকাতা শহরে ডেঙ্গুর প্রভাব এক সময় আমাদের থেকে অনেক বেশি ছিল। আজকে কলকাতায় ডেঙ্গু নাই। বৃষ্টি হবেই। এই বৃষ্টি কখনো কাঙ্ক্ষিত কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত।। কখনো বেশি বন্যা হয়। কাজেই বৃষ্টি হবেই। সেটি আমরা বন্ধ করতে পারব না। সেটি বন্ধ করার দরকারও নাই ।

নিজেদের পরিচ্ছন্নতার সার্বিক একটি উদ্যোগ দরকার । সেখানে টাকা পয়সা খরচ করতে হবে। জনবল নিয়োগ দিতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে । একটি গঠনমূলক স্বদিচ্ছা দরকার হবে। যুবসমাজকে কাজে লাগাতে হবে। যারা রোগী তাদের সাবধান হতে হবে। মশারি খাটিয়ে থাকতে হবে। তবে এটি সাময়িক সমাধান। ভোরবেলা মশারি থাকলেও সন্ধ্যাবেলা তো কাজের সময় । কাজেই যারা প্রান্তিক মানুষ তাদেরকে ব্যপক সহায়তা দেওয়া দরকার । এরা যেখানে থাকে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন করা ছাড়া উপায় নেই। পয়ঃনিস্কাশন পরিষ্কার রাখা, পানি সরবরাহ পরিষ্কার করা। পানি প্রবাহিত হতে পারে সেটি দেখভাল করার জন্য কর্মী নিয়োগ করা উচিত। চিকিৎসার পেছনে টাকা খরচ করেন তার চেয়ে প্রতিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করা জরুরি। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের ঘরকে নেট দিয়ে রাখতে পারেন।

আমরা যদি পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা নেই সেক্ষেত্রে সেটি যেন পঞ্চাশ বছরের জন্য ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ রাখতে পারে মানুষকে। আমরা নিশচয়ই সব সময় এয়ার কন্ডিশন ঘরে বসে থাকব না। আমাকে বের হতে হবে। এক সময় লন্ডন শহরে কলেরা তে লক্ষ লক্ষ লোক মারা গেছে। এখনো লন্ডন শহর নিরাপদ। প্লেগ কলেরা ইত্যাদি কিছুই নাই। কাজেই সুরক্ষার জন্য আমাদের আরও বেশি দূরদর্শী হওয়া দরকার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন দরকার। মুনাফা ভিত্তিক চিন্তা ভাবনা না করে আমাদের জনকল্যাণমুখী চিন্তা ভাবনা দরকার ।

লেখক: ইন্সটিটিউট অফ এপিডেমিওলজি,পরামর্শক আইইডিসিআর