ব্যাংকিং খাত সংস্কারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি

২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৫১ পিএম | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:২৪ এএম


ব্যাংকিং খাত সংস্কারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি

আমি মনে করি, সর্বোতভাবে আমাদের অবস্থা হলো, মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ কমে যাওয়া, রপ্তানি বাণিজ্য সংকোচন, মোটামুটিভাবে মন্থরগতিতে এগোচ্ছে দেশের অর্থনীতি। আমরা দেখছি সবদিকেই তার প্রতিফলন হচ্ছে। এমনকি অন্যান্য দেশেও তা হচ্ছে।

আমাদের জন্য সমস্যা হলো, আমাদের কাঠামোগত দিক, যেমন ব্যাংকিং খাতে সংস্কার জরুরি। এটি সমাধান করতে না পারলে খুব ফলপ্রসূ কিছু আশ করা যাবে না। অতএব, সহসা সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নীতি নির্ধারকরা যা ভাবছেন তা সঠিক নয়।

দ্বীতিয়ত, আমাদের বৈদেশিক বিনিয়োগ যে খুব একটা হচ্ছে তা নয় এবং এখান থেকে সুফল আসার সম্ভাবনাও খুব একটা নেই। অন্যদিকে চায়না স্লো ডাউন হয়েছে। আমাদের সবদিক থেকেই অর্থাৎ আমাদের বহিঃবাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উভয়ই দিন দিন সংকোচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে অর্থের যোগান দেবে, সেটি বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের যে মেগা প্রকল্প আছে, অর্থাৎ সেসব পাবলিক সেক্টরে যাবে। অর্থাৎ পণ্য উৎপাদন বেশি হবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি যে কমে যাবে সেটি ভাবারও অবকাশ নেই। আমাদের ধানের মৌসুম আছে, উৎপাদন ক্ষেত্রে সেটি অবশ্য কিছুটা ভালো প্রভাব রাখতে পারে।

আমি মনে করি, সবকিছু মিলিয়ে যেভাবে কর্ম তৎপরতাগুলো নেওয়া দরকার ছিল, বিশেষ সময়ে বিশেষ কার্যক্রম সেটিও খুব একটা আশাব্যাঞ্জক হয়নি। সেখানে যে খুব গতি সঞ্চালিত হয়েছে সেটিও নয়। কাজেই অর্থনীতি খুব সহজেই ভালো হবে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক যদিও বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বললেও বিশ্বব্যাংক বলছে ৫ দশমিক ২৫শতাংশের বেশি হবে না। আএমএফের প্রতিনিধি সফর শেষে তিনিও বলে গেলেন যে, সংস্কারগুলো জরুরি। তা না হলে ভালো কিছু আশা করা সমীচীন হবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুবই জরুরি। তা না হলে যেমন চলছে, চলবে অথবা এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে, এই ধারণাগুলোই ঠিক নয়।

বিশ্বব্যাংকের এমডি আর্থিকখাতে কাঠামোগত সংস্কার, ভ্যাট ব্যবস্থা ও কর ব্যবস্থার সংস্কার, রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন নিশ্চিত এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের থেকে অর্থায়ন দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিতে বেসরকারি খাতে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

অন্যান্য দেশগুলো কিন্তু মোটামুটি অর্থনৈতিক স্ট্যাবিলিটি বজায় রাখতে চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা বলা যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি অথবা রিজার্ভ উভয় ক্ষেত্রেই একটি ইতিবাচক অবস্থানে আছে। সেদিক বিবেচনায় নেপাল পাকিস্তান ও শ্রীলংকার অবস্থা বেশ খারাপ। আমাদের অবস্থা ততটা খারাপ না হলেও কিন্তু আমরা আশা করতে পারি না যে, সবকিছু খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। আপাত দৃষ্টিতে আমরা যত ভালো বলি না কেন তার বাস্তবায়ন অর্থাৎ বাস্তবক্ষেত্রে তার প্রয়োগ না হলে কোনো লাভ হবে না। কাজেই সঠিক বাস্তবায়ন করে দেখাতে হবে। সেটি যে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক করবে তা নয়। এখানে একটু সমন্বয় করতে হবে।

এখন যেটি প্রতীয়মান হচ্ছে, নির্বাচনের দিকে সবার দৃষ্টি। তবে নির্বাচনকে ঘিরেই যে সবকিছু আবর্তিত হবে, সেটি কিন্তু ঠিক নয়। ইতিবাচক আশ্বাস থাকা ভালো। তবে আমি বলব শুধু ইতিবাচক কথা নয় অর্থনীতি রেমিট্যান্স রিজার্ভ পুনরায় স্থিতিশীল করতে কথা ও কাজের সঠিক বাস্তবায়নটুকু জরুরি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসএন