মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ | ১১ আষাঢ় ১৪৩১
ic:outline-menuDhaka Prokash

বইমেলার দিগন্ত-ছোঁয়া আকাশ

২০১৭ সালের ডিসেম্বরের ২১ তারিখে শুরু হয়েছিল খড়দহ বইমেলা। ১৮ বছর ধরে এই বইমেলা বৎসরে একবার আয়োজিত হচ্ছে। আমার কখনো এই বইমেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে এই বইমেলার খবর পত্রিকায় পড়েছি। যাদের এই বইমেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাদের কাছে বইমেলা সম্পর্কে গল্প শুনেছি। তারা ভালো লাগার কথাই বেশি করে বলত। আমার ধারণা হয়েছিল ছোট বইমেলার বড় পরিসর নিয়ে খড়দহ বইমেলা লেখক-পাঠকের প্রাণের বইমেলা হয়েছে। এ বছর মেলা আয়োজক কমিটি সিদ্ধান্ত নেন যে এখন থেকে বাংলাদেশের একজন লেখককে এই মেলার উদ্বোধনী দিনে আমন্ত্রণ জানান হবে।

বইমেলা কমিটির সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে আসে। বইমেলার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন শ্রী কাজল সিনহা। আমি উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মানস চক্রবর্তীর কাছ থেকে আমন্ত্রণ পত্র পাই। খড়দহ বইমেলা দেখার সুযোগ আমি পাই। সেদিন মঞ্চে অনেকে ছিলেন। ছিলেন কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী। সবার বক্তৃতার পরে গান গেয়েছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। খড়দহ মেলার পরিসর অনেক বড় নয়। চারদিকের বসতির মাঝে একটি মাঠ ব্যবহৃত হয় এই মেলার জন্য। দেখলাম ৪০টি বইয়ের স্টল আছে। মাঠভর্তি মানুষের উপস্থিতি দেখে মনে হয়েছে ছোট বইমেলার বড় দিগন্ত। মেলাজুড়ে মানুষের উপস্থিতি বইয়ের হাত ধরে। এমন দৃশ্যটি আমার মাঝে সীমান্ত পেরিয়ে আসার আনন্দ আকাশ-ছোঁয়া করে ফেলে। এই বইমেলার যে বিষয়টি আমার আরও ভালো লেগেছে তা হলো ঘনবসতির মাঠে অনুষ্ঠিত মেলা মানুষের দোরগোড়ার আয়োজন। শিশুদের হাত ধরে বাবা-মায়েরা মেলায় আসছে। বই কিনছে। গাড়ি ভাড়া করে দূরে কোথাও যেতে হচ্ছে না। হাতের কাছে এত বই না কিনে কি উপায় আছে! দুচারটা তো কিনতেই হয়। এভাবে বইমেলার ছোট আয়োজনে মানুষ হাতের কাছে বই পায়। বই পৌঁছে যায় বড়দের কাছে, ছোটদের কাছেও। খড়দহ মেলা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আমি প্রাণের টান অনুভব করি।

একজন লেখক হিসেবে বইমেলা আমার কাছে আপন অস্তিত্বের মতোই একটি বিষয়। বাংলা একাডেমিতে ৩৪ বছর চাকরি করে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমি দেখেছি খুব কাছে থেকে প্রতিদিন, প্রতিটি সময়ে। এর চরিত্র শুধু বই প্রকাশ এবং বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই বইমেলা ভাষা আন্দোলনের শহীদের রক্তে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত এবং একুশে ফেব্রুয়ারির উপলক্ষ হলেও সারা মাস জুড়ে বইমেলার আবেদন জাতীয় মননের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আমি জানি না সারা মাস জুড়ে অন্য কোনো দেশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় কি না। বাংলা একাডেমি আয়োজিত ফেব্রুয়ারি বইমেলাটি আমাদের একদম নিজস্ব বইমেলা। নিজেদের লেখক, নিজেদের প্রকাশনা এবং নিজেদের ভাষার পাঠকের মহাসম্মেলন এই মেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। জাতিসত্তার এমন অসাধারণ রাখিবন্ধন করেছে আমাদের অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

এ ছাড়া, আমি বিভিন্ন সময়ে ভারতের তিনটি প্রদেশের বইমেলায় আমন্ত্রিত হয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ১৯৯৬ সালে প্রথম যাই দিল্লিতে। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ দিন ধরে চলেছিল এই মেলাটি। এটি ছিল দিল্লির দ্বাদশ বিশ্ব বইমেলা। মেলার থিম ছিল ‘সার্ক দেশসমূহ’। সার্কদেশসমূহের সাতজন লেখক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মেলার উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তানের কবি আহমদ ফরাজ। আমাকে দেয়া হয়েছিল ইংরেজি ও হিন্দি বইয়ের তালিকা (ক্যাটালগ) অবমুক্ত করার জন্য। সাতটি দেশের সাতজন লেখকই কিছু না কিছু করেছিলেন। বইমেলাটির আয়োজন করেছিল ‘ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’।

আমার লিখিত ভাষণে আমি বলেছিলাম, ‘আমি মনে করি বইমেলা এমন সম্মেলনের ও অঙ্গীকারের প্রতীক, যা একটি বিশেষ দেশের সীমানাকে ছাড়িয়ে যায়। বই যেভাবে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা হ্রাস করে মানুষকে শান্তি ও সৌহার্দ্যরে পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তেমনটি আর কিছু পারে বলে আমি মনে করি না এবং বইমেলাই আমি বিশ্বাস করি, মারণাস্ত্র, সামরিক শাসন, স্বৈরাচার, অসাম্য এবং অন্য যা কিছু মানুষকে মানুষ হিসেবে খর্ব করে, তার বিরুদ্ধে শপথ উচ্চারণ করার এবং নিজেদের আত্মাকে বিকিয়ে না দেওয়ার জন্য অঙ্গীকার ঘোষণার সর্বোত্তম সুযোগ এনে দেয়। এই বিশ্বমেলা আয়োজনের জন্য আমি ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন জানাই।’

মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিল্লির প্রগতি ময়দানে। পাশাপশি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। অসংখ্য লেখক, অজ বই আমার জন্য ছিল এক বিপুল অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন দেশ থেকে, বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লেখক এবং প্রকাশকরা আমার মনোযোগ কেড়েছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি অনেক কিছু জানতে পারি। মোজাম্বিক থেকে এসেছিলেন একজন নারী, তার নামটা ভুলে গেছি, তিনি অত্যন্ত কর্মনিষ্ঠ মহিলা। তার নিজের প্রকাশনা সংস্থা ছিল এবং আফ্রিকার কোনো একটি বইয়ের সংগঠনের তিন সভাপ্রধান ছিলেন। ওয়াইএমসিএ’র গেষ্ট হাউসে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। তার প্রকাশনা সংস্থা থেকে বেশ কয়েকটি বই কিনি। পরিচয় হয়েছিল দিল্লির ‘কালি ফর উইম্যান’-এর স্বত্তাধিকারী উর্বশী বুটালিয়ার সঙ্গে। তার সংস্থাটি সে সময়ে নারী বিষয়ে বই প্রকাশের জন্য বেশ নাম করেছিল।

এখন উর্বশী জুবান নামে প্রকাশনা সংস্থা চালায়। প্রগতি ময়দান একটি বিশাল এলাকাজুড়ে, অনেক সময় এই মাথা থেকে ঐ মাথায় যেতে গাড়ি ব্যবহার করছিল মেলা কর্তৃপক্ষের লোকজন। অন্যথায় সাধারণের জন্য গাড়ি প্রবেশ নিষেধ। ব্যাংক, পোস্ট অফিস, টেলিফোন অফিস ইত্যাদিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই ছিল সে মেলা প্রাঙ্গণে। পরে শুনেছিলাম এই ময়দানটি বিভিন্ন ধরনের মেলা আয়োজন করার জন্য স্থায়ী স্থাপনা। প্রগতি ময়দানে গিয়ে পরিচিত হওয়ার অসংখ্য মানুষ এখনো আমার স্মৃতির এক গভীর সঞ্চয়। বইমেলা আমার জন্য দেশের সীমানা তুলে দিয়েছিল প্রত্যক্ষভাবে। পরে যে বইমেলাটি আমাকে টেনেছে সেটি হলো ‘আগরতলা বইমেলা’। ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টাদশ আগরতলা বইমেলা।

ঐ বইমেলায় উপস্থিত থাকার জন্য আমি নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম ত্রিপুরা সরকারের তথ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী জীতেন্দ্র চৌধুরীর কাছ থেকে। বইমেলা আয়োজিত হয়েছিল ‘রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন’ প্রাঙ্গণে। বইমেলার উদ্বোধক ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী কবি অনিল সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গ্রন্থাগার মন্ত্রী নিমাই পাল এবং ত্রিপুরার প্রবীণ কথাসাহিত্যিক বিমল চৌধুরী। প্রদীপ জ্বালিয়ে বইমেলা উদ্বোধন করা হলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে আলোর মালা। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলা ও ককবরক ভাষায় রবীন্দ্রনাথ লিখিত জাতীয় সংগীত পরিবশেন করে শিল্পীরা।

আয়োজনটি ছোট ছিল কিন্তু প্রাণের আবেগে ভরপুর ছিল। স্থানীয় লেখকরা আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাদের আলোচনা থেকে ত্রিপুরার সাহিত্যের একটি ধারণা পাওয়া যায়। কয়েকদিন ত্রিপুরা থেকে তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে বইমেলার আবহকে আমার একটি ভিন্নমাত্রার অনুষঙ্গ মনে হয়েছিল। ছোট আয়োজনটি মাতিয়েছিল অনেক বেশি করে।

কলকাতার বইমেলায় আমি অনেকবার গিয়েছি। এই বইমেলাটিও আমার জন্য অনেক বড় একটা স্মৃতি হয়ে আছে। কারণ, মাতৃভাষায় লেখা বই কিন্তু অন্যদেশ ও সংস্কৃতির মানুষের কথা তাই এই বইমেলায় যেতে তাগিদ অনুভব করি। ১৯৯৯ সালে কলকাতা বইমেলার থিম ছিল ‘বাংলাদেশ’। আমাকেও একটি প্রবন্ধ পড়তে হয়েছিল। সেবার গড়ের মাঝে বইমেলা হয়েছিল। এই মেলায় একটুখানি ধাক্কা খাই, কারণ প্রতিষ্ঠিত লেখকরা ভালো ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশ থিম কান্ট্রি হলেও বাংলাদেশের লেখকদের আলোচনা অনুষ্ঠানের সময় তারা মেলায় উপস্থিত থেকেও আড্ডা দিয়েছেন অন্যত্র। মনে হয়েছিল, লেখকদের সঙ্গের দরকার নেই। বই কেনা হোক আনন্দের। লেখকদের উদাসীনতা দেখে ভেবেছিলাম এই বইয়ের প্রাচুর্য কিন্তু লেখকদের হৃদয় খোলা নয়। বই চাই, লেখকের উষ্ণতা চাই না। এটা তো হয় না, যেটা আমি দিল্লি কিংবা আগরতলায় পাইনি। দিল্লি এবং আগরতলায় যেসব লেখকের সঙ্গে দেখা হয়েছে তারা বাংলাদেশের সাহিত্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

সালটা মনে নেই, মনে আছে কোনো এক সময়ে ঢাকার ‘মুক্তধারা’র স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের বইয়ের পসরা বসিয়েছিলেন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। ঘাসের উপর চট বিছিয়ে রেখে দেয়া বইগুলো ফুলের মতো ফুটেছিল। পাঠক উবু হয়ে বসে বই দেখেছিলেন। মনে হচ্ছিল এ এক অন্য জগৎ।

এই মেলাকে আস্তে আস্তে বড় হতে দেখেছি। স্টল তৈরি হতে দেখেছি। ছোট পরিসরে মেলার আয়োজন দেখেছি। এসব সত্তর দশকের কথা। মানুষের ভিড় কম ছিল। স্টলের সংখ্যা কম ছিল। ঘুরে ঘুরে বই দেখার আনন্দ ছিল বেশি। বই খুঁজতে ঠেলাঠেলি করতে হয়নি। অনায়াসে পেয়ে যেতাম নিজের পছন্দের বই। আশির দশকে মেলার বড় পরিবর্তন হয়। ১৯৮৪ সালে বইমেলার আনুষ্ঠানিক নাম করা হয় ‘অমর একুশে বইমেলা।’ এ বছর একাডেমি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট করে মেলার আয়তন বাড়ানো হয়। মাটি ফেলা হয় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে। ভরাট করা হয় বর্ধমান ভবনের উত্তর ও ক্যাফেটেরিয়া ভবনের দক্ষিণ দিক। আশির দশকে এটি একটি দিক ছিল যে মেলার আয়তন বাড়ানো। আরেকটি দিক ছিল এই বছরে মেলার দিনও বাড়ানো হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগে একুশের বইমেলার সময় ছিল মাত্র কয়েকদিন। এ সময়ের বইমেলা উদ্বোধন করতেন দেশের বরণ্যে কেউ। মেলার এমন পরিবেশে বিশ্বাস করতাম বইমেলা মানুষের সাংস্কৃতি চেতনাকে পরিশীলিত করে। তথ্য প্রযুক্তির এই সময়েও বলতে চাই বইয়ের বিকল্প নেই। বড় করে শ্বাস নিলে একুশের চেতনায় প্লাবিত হয়ে থাকা মেলা প্রাঙ্গণ জাতির ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ জায়গা।

নব্বইয়ের দশকে বইমেলা আরও বড় হয়। বইমেলা উদ্বোধন করতে আসেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এখন পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই অনুষ্ঠান বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসারি প্রচারের ব্যবস্থা করার ফলে দেশের দূর অঞ্চলের মানুষ দেখতে পাচ্ছে। প্রতিদিন বইমেলার খবর প্রচারিত হয় দৈনিক পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক চ্যানেলে। এভাবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের নানা কর্মকাণ্ড একুশের বইমেলাকে সম্প্রসারিত করেছে। ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে জায়গার। তাই প্রশ্ন উঠেছে বইমেলাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া যায় কি না তা ভেবে দেখার জন্য। বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী ময়দানের বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে বইমেলা আয়োজিত হয়।

আরও একটি বইমেলার কথা উল্লেখ করতে চাই। এই বইমেলার আয়োজন করেছিল আদিবাসী মান্দি জনগোষ্ঠী। বইমেলার স্লোগান ছিল ‘বই হোক মান্দিদের আত্মবিকাশের মন্ত্র।’ আত্মবিকাশের অর্থ অনেক বড়, আমি মনে করি বইমেলা দিয়ে শুধু বই কেনা বা পড়ার অভ্যাসটা গড়ে তোলা নয়। এর অর্থ নিজের বিকাশকে পূর্ণাঙ্গ করা। ব্যক্তিমর্যাদাকে বিকশিত করা এবং জাতিগোষ্ঠীর মর্যাদাকে রাষ্ট্রীয় অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে সমুন্নত করা। বই আত্মবিকাশের সহায়ক শক্তি। আজকের এই আলোকিত মুখের কাছে আমার দাবি, তারা তারুণ্যপ্রদীপ্ত হয়ে বইয়ের মাধ্যম নিজেদের যোগ্য করে তুলবে।

মান্দি ভাষার উদীয়মান তরুণ কবি মিঠুন রাকসাম যখন এই বইমেলার উদ্বোধনের আয়োজন করে, এটি কোনো সামান্য ঘটনা নয়, এটি একটি শুভ, বি-শা-ল ঘটনা। আমরা যখন বলব যে আমাদের বৈচিত্র্য আছে, আমাদের জাতিসত্তার মধ্যে যে বৈচিত্র্য আছে, যাদের নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সারা বিশে^র দরবারে যেতে পারবে, বলতে পারবে। এই আমি, এই আমার মান্দি জনগোষ্ঠী, এই আমি, এই আমার আইন, এই আমার ইতিহাস, এই আমার ঐতিহ্য, এই আমার গল্প, এই আমার কবিতা, এই আমার নাটক, এই আমার পাহাড়, মধুপুরের গড়, পর্বত-জঙ্গল। সবকিছুর ভেতরে আমাদের অস্তিত্ব আছে। এই অস্তিত্বের যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আজকের বইমেলার শুরু, উদ্বোধন তার ভেতর দিয়ে । বই কোনো একটি কাগজের পাতা নয়, বই কোনো একটি দুই মলাটের কোনো কিছু নয়, বই একটি অসাধারণ শক্তি। আমি মনে করি, আজকের প্রযুক্তির দিনে, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, ইমেইল, মোবাইল, সবকিছুর পরও বই আমাদের সেই শক্তি, যে শক্তির ভেতর দিয়ে আমরা আমাদের নিজেদের আবিষ্কার করতে পারি। প্রতিটি লেখা প্রতিটি অক্ষর আমাদের জীবন হয়ে থাকবে।

ইদানিং বাংলাদেশের প্রকাশকরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বইমেলার আয়োজন করে। তাদের লক্ষ্য ছেলেমেয়েদের হাতের নাগালে বই পৌঁছে দেওয়া। একবার ছায়ানট ভবনের নালন্দা স্কুলে আয়োজিত হয়েছিল বইমেলা। আমি আমন্ত্রিত অতিথি ছিলাম। দেখলাম ছেলেমেয়েরা বই কিনছে। ষষ্ঠ শ্রেণির একটি মেয়ে আমার ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসটি এনে আমাকে বলল, ‘আপনার এই বইটি আমাকে দিতে হবে। আমার কাছে যে টাকা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে।’ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বই আর বইমেলার বিষয়টি গভীর ভালোবাসায় দেখতে পাই। আমি ওর মাথায় হাত রেখে বলি, ‘মাগো তোমার যে বই ভালোলাগে তা নাও। টাকার কথা ভাবতে হবে না।’ একটি বইয়ের জন্য ও দাবি জানিয়েছে, আবদার করেনি। বইমেলার সার্থকতা এখানে। এমন অনেক ছোট ছোট বইমেলার নানা অভিজ্ঞতা আমার আছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে গিয়েছিলাম হুগলির কোন্নগরের নবগ্রাম হীরালাল পাল কলেজে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলেজের বাংলা বিভাগ। হুগলি শহরে অনেক ছোটবড় বইমেলা দেখে প্রাণমাতানো আনন্দ নিয়ে দেশে ফিরে আসি। বারবারই ভাবি এভাবে বইমেলা মানবজীবনের প্রগতির ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখবে। জনজীবনের অধিকারের লড়াইয়ে প্রেরণা দেবে। জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রক্ষার সহায়ক শক্তি হবে। যত ছোট আকারের হোক না কেন কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা বিলুপ্ত হবে না। বইমেলা ধারণ করবে মানবজাতির সৃজনশীল মেধা। বিকশিত হবে জ্ঞান। চর্চিত হবে শুভ ও কল্যানের বোধ।

২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি খড়গপুর বইমেলায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অনুষ্ঠিত এই মেলা আমার সামনে আর এক দিগন্ত। লেখক-পাঠকের মিলনমেলায় স্নাত হই। নিজের বইয়ের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় পাঠককে। আমরা সবাই জানি বইয়ের সীমান্ত নেই। সীমান্ত ছাড়িয়ে বই পৌঁছে যায় মানুষের কাছে। এশিয়ার মানুষ হয়ে জানতে পারি আফ্রিকার সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের রূপরেখা। জানতে পারি ইউরোপ-আমেরিকা-ল্যাটিন আমেরিকার জীবন। বই মানবজাতির অক্ষয় সাধনা।

 

Header Ad

কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং ইউরো ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ চলমান থাকা অবস্থায়ই গত ২১ জুন শুরু হয়েছে কোপা আমেরিকা। আর আজ সকালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল।

এবারের আসরের জন্য অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়েছেন কোচ দরভাল জুনিয়র। তবে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে তরুণ সেলেসাওরা। কোস্টারিকার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ব্রাজিল। ডি’ গ্রুপে আজ (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচটিতে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল।

শুরু থেকেই কোস্টারিকাকে চেপে ধরে ব্রাজিল। তবে তাদের একের পর এক আক্রমণ ভেস্তে যায় কোস্টারিকার রক্ষণদেয়ালের জন্য। ম্যাচজুড়ে একটি আক্রমণও না করা দলটির কাজ ছিল কেবল ব্রাজিলিয়ানদের আটকে রাখা। আর সেটিই করে দেখিয়েছে তারা। ড্র করে রুখে দিয়েছে সেলেসাওদের।

ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে ব্রাজিল। তবে কোস্টারিকার রক্ষণভাগ দেয়ালের মতো বাধা দিতে থাকে তাদের। কোনোভাবেই এই রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারছিল না তারা। ২২তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় লুকাস পাকুয়েতা। বাঁ দিক থেকে প্রতিআক্রমণে গিয়ে তার উদ্দেশে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু বলটি ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি ওয়েস্ট হ্যামের এই মিডফিল্ডার।

৩০তম মিনিটে বল জালে পাঠায় ব্রাজিল। রাফিনিয়ার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে রদ্রিগোর পাসে বক্স থেকে পায়ের স্পর্শে গোলটি করেন মার্কিনিয়োস। তবে লম্বা সময় ভিএআর চেকের পর সেটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ৪০তম মিনিটে বক্সে ভারগাসের ফাউলের শিকার হন পাকুয়েতা। তখন পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি সেটি দেননি।

বিরতির পরও একইভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৬৩তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত তারা। তবে পাকুয়েতার বুলেট গতির শটটি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ৭২তম মিনিটে অল্পের জন্য নিজেদের জালে হেডে বল পাঠাননি কোস্টারিকা ডিফেন্ডার কুইরোস।

৭৯তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। সতীর্থের ক্রস বক্স থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন আরানা। তবে কোস্টারিকা গোলরক্ষক সেটি ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন। ৮৫তম মিনিটে সাভিওর শট ঠেকিয়ে দেন ভারগাস। ৮৭তম মিনিটে বক্সে রদ্রিগো ফাউলের শিকার হলে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টির আবেদন করে ব্রাজিল। তবে এবারও গলেনি রেফারির মন।

যোগ করা সময়ে দারুণ এক সুযোগ পান রদ্রিগো। বক্সে আসা শট কোস্টারিকা ফুটবলারের পায়ে লেগে চলে যায় পাকুয়েতার কাছে। তার দেওয়া দারুণ পাস গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল।

হজে গিয়ে ৪৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮১৬ হাজি

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৬ হাজি দেশে ফিরেছেন। মারা গেছেন ৪৭ জন। সোমবার (২৩ মে) রাতে হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদি থেকে ৩৮টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুুরুষ ৩৬ এবং মহিলা ১১ জন।

এদিকে, আগামী বছর (২০২৫) বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, নির্ধারিত সংখ্যার মধ্যে কতজন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর কতজন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন তা বাংলাদেশ সরকার পরে নির্ধারণ করে দেবে।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অজিরা। রোহিত শর্মা ব্যাট হতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান। ৪১ বলে ৯২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রোহিত।

তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে ২০ ওভারে ২০৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২০৬ রান। জবাবে ১৮০ রানেই গুটিয়ে যায় অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৪ রানে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত।

সোমবার (২৪ জুন) অ্যান্টিগায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২০৫ রান করেছে ভারত। বিরাট কোহলির পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে যান। পুরো আসর জুড়ে পুরোপুরি ব্যর্থ ভারতের এই তারকা ব্যাটার।

আরেক পাশে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রোহিত। মিচেল স্টার্কের করা দ্বিতীয় ওভারে একাই আদায় করেন ২৯ রান। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ভারতীয় অধিনায়ক ৪১ বলে ৭ চার ও ৮ ছক্কায় ৯২ রানের ইনিংস খেলে স্টার্কের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এর মাঝে অবশ্য ঋষভ পন্তের সঙ্গে ৮৭ ও সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটি গড়েন।

রোহিত চলে যাওয়ার পর শিবাম দুবের ২৮ ও হার্দিক পান্ডিয়ার অপরাজিত ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে দুইশ পার করে ভারত। এছাড়া সূর্য খেলেন ১৬ বলে ৩১ রানের ইনিংস। অজিদের হয়ে দুটি করে উইকেট পান স্টার্ক ও মার্কাস স্টয়নিস। রানবন্যার ভিড়েও ৪ ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন জশ হ্যাজেলউড।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় অজিরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার (৬)। তিনে ব্যাট করতে এসে হেডকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মিচেল মার্শ। দুজনের ব্যাটে ভর করে পাওয়ার প্লেতে ৬৫ রান তোলে অজিরা। তবে ২৮ বলে ৩৭ রান করে বাউন্ডারি কাটা পড়েন মার্শ। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে ২৫ বলে ফিফটি তুলে নেন ট্রাভিস হেড।

এদিন ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১২ বলে ১৯ রান করেন এই অজি অলরাউন্ডার। ৪ বলে ২ রান করে তাকে সঙ্গ দেন মার্কাস স্টোইনিস। তবে লড়াই করতে থাকেন হেড। ১৭তম ওভারে হেড ক্যাচ আউট হলে চাপে পড়ে অজিরা। ৪৩ বলে ৭৬ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এরপর ২ বলে ১ রান এবং ১১ বলে ১৫ রান করে টিম ডেভিড আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অজিরা।

শেষ পর্যন্ত মিচেল স্টার্কের ৪ রান এবং প্যাট কামিন্সের ৭ বলের ১১ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ১৮১ রান তুলতে পারে অজিরা। এতে ২৪ রানের জয় পায় ভারত। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন আর্শদ্বীপ সিং। এ ছাড়াও কুলদ্বীপ যাদব দুটি, অক্ষর প্যাটেল এবং জাসপ্রিত বুমরাহ একটি করে উইকেট নেন।

বিশ্বকাপের আরেক সেমিফাইনালিস্ট এখনও নির্ধারণ হয়নি। ভারতের কাছে হারলেও এখনও সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ রয়েছে অজিদের। তবে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ ম্যাচের দিকে। আফগানিস্তানকে বাংলাদেশ হারিয়ে দিলে বা বড় ব্যবধানে না হারলে সেমিফাইনালের টিকিট পাবে অজিরা।

অন্যদিকে সুপার এইটে টানা দুই ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের হবে। চমক দেখিয়ে অজিদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশের সেই স্বপ্নকে আবারও জীবিত করে আফগানরা। তাকে ভারতের কাছে অজিদের হারে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন আবারও ভেস্তে গেছে। আগামীকাল ভোরের ম্যাচে যদি আফগানিস্তানকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ, তবে অন্য তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ২। তখন হিসেব করা হবে নেট রানরেরেট কে এগিয়ে।

সর্বশেষ সংবাদ

কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল ব্রাজিল
হজে গিয়ে ৪৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮১৬ হাজি
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ভারত
টাঙ্গাইলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন মোটরসাইকেল আরোহী
সেমিতে যেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১১৬ রান
রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আলোচিত পাপিয়া
ভোরে শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে টিম টাইগার্স
আত্রাই বিলসুতি বিলে জব্দ করা ১৫ লক্ষ টাকার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস
আছাদুজ্জামান মিয়ার তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এডিসি জিসানুল বরখাস্ত
ভারতীয় বোর্ডকে শর্ত দিয়েছেন গম্ভীর, কোচ হলে ছাঁটাই হতে পারেন কোহলি-রোহিতরা
টাঙ্গাইলে ২০০ বস্তা চাল উদ্ধার, এক ব্যবসায়ীসহ ২ জন আটক
টাঙ্গাইলে কমতে শুরু করছে যমুনার পানি
১০ মাসে ১৩০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে বিদেশিরা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন বলেই খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন : আইনমন্ত্রী
রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল
তামিলনাড়ুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত বেড়ে ৫৬
আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান মারা গেছেন
কৃষক বেঁচে থাকলে দেশে খাদ্যের অভাব হবেনা: খাদ্যমন্ত্রী
তদন্তের আগে কাউকে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী