ক্যাম্পাস

‘প্রশ্নফাঁসে’ অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পাচ্ছেন ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ!


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ১০:৪৮ পিএম

‘প্রশ্নফাঁসে’ অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পাচ্ছেন ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ!
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অধ্যয়নরত মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদত্ত ভাইস-চ্যান্সেলর স্কলারশিপে মনোনীত তালিকায় রয়েছেন ‘প্রশ্নফাঁসের’ অভিযোগ ওঠা এক শিক্ষার্থী।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, অনিয়ম করে মার্ক পাবার অভিযোগ আছে যার বিরুদ্ধে, সে কোনোভাবেই এই স্কলারশিপ পাবে না। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) স্কলারশিপ প্রাপ্তদের তথ্য সংবলিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তালিকা ঘেটে জানা যায়, তালিকায় ৬৫ নাম্বারে আছেন লামিয়া আর্জুমান্দ নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষ থেকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তবে, চলতি বছরের গত ১১ মার্চ এই শিক্ষার্থীকে বিভাগের শিক্ষক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের মাধ্যমে উত্তরপত্রসহ প্রশ্ন পাবার অভিযোগ উঠে, যা তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ অভিযুক্ত শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে প্রেরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

‘প্রশ্নফাঁসে' অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম কুবি ভাইস-চ্যান্সেলর স্কলারশিপ প্রাপ্তদের তালিকায় থাকা নিয়ে এরইমধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন বলছে, বিভাগ থেকে মনোনয়ন করা শিক্ষার্থীদেরকেই তালিকায় রাখা হয়েছে। কিন্তু, এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়, এটিকে খসড়া বলে দাবি করেন প্রশাসন। 

এদিকে বিভাগ বলছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যার কারণে বৃত্তি প্রাপ্তদের তালিকা তৈরির সময় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়নি। 

এবিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রশাসন থেকে আমাকে এই ধরনের কোনো চিঠি দেয় নাই যে এই শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেয়া যাবে না। আর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে শুধু শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যে শিক্ষার্থীর কথা বলতেছেন সে ক্লাস- পরীক্ষা সবকিছুতে অংশগ্রহণ করেছে। প্রশাসন থেকে আমাকে শুধু বলা হয়েছে মেধা আর দারিদ্র্যতার ভিত্তিতে এই স্কলারশিপ দেয়ার জন্য। তাহলে এই শিক্ষার্থীকে কিসের ভিত্তিতে বাদ দিব? যেহেতু এখনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তারপরও প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা তালিকা পাঠিয়েছি; এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই চূড়ান্ত হবে।’

এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘অনিয়ম করে মার্ক পাবার অভিযোগ আছে যার বিরুদ্ধে সে কোনোভাবেই এই স্কলারশিপ পাবে না। এটা (তালিকা) বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছে, আমরা আরও যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করবো৷ প্রতিটা শিক্ষার্থীর পুরো একাডেমিক লাইফ দেখা হবে, শুধু নাম্বার ভালো এমন ভিত্তিতেই স্কলারশিপ দেয়া হবে না। এটি একটা খসড়া তালিকা শুধু।’